নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রবল দুর্যোগের দোসর গঙ্গার বাণ। জলে ডোবা ময়দানে ‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই।’ তিন প্রধানে হাঁটু ছাপিয়ে কোমর পর্যন্ত পৌঁছেছে জল। অন্য মাঠেও একই ছবি। নদী বা পুকুর ভেবে গুলিয়ে ফেলার অবস্থা। তবে আইএফএ কর্তারা ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন। ২৪ ঘণ্টা আগে এমনটা হলে ইস্ট বেঙ্গল বনাম ইউনাইটেড ম্যাচ ভেস্তে যেত। সেক্ষেত্রে পুজোর আগে লিগ শেষ করতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তো বঙ্গ ফুটবল সংস্থা। এক কর্তা বলেই দিলেন, ‘ভগবান সহায়। জোর ফাঁড়া কেটেছে।’
অন্যদিন সকাল থেকেই সরগরম থাকে ময়দান। অনুশীলনের পর বিভিন্ন দলের ক্যান্টিনে পেট ভরান খেলোয়াড়রা। এদিন কাকভোরে ক্যান্টিন কর্মীদের চোখ কপালে। জলে ভাসছে সবকিছুই! শেষ কবে এত বৃষ্টি হয়েছে মনে পড়ে না। সোমবার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্ট বেঙ্গল। এদিন সাড়ম্বরে পতাকা উত্তোলনের পরিকল্পনা ছিল কর্তাদের। জলের তোড়ে সব চৌপাট। বন্ধ রাখতে হয় জিম, ক্যাফেটেরিয়াও। কয়েক হাত দূরের এরিয়ানের অবস্থাও তথৈবচ। ক্লাব তাঁবুর ভিতর মিনি সুইমিং পুল। ভাসছে প্লাস্টিকের চেয়ার। কোনওরকমে ট্রেনিংয়ের সরঞ্জাম সরিয়ে রাখা হয়েছে। আরও বৃষ্টি হলে কী হবে? কেউ জানেন না। হুড়মুড়িয়ে জল ঢোকে মোহন বাগান লনে। গ্যালারির নীচেও জল থইথই। তালতলা, গ্রিয়ার, বাটা, বিজি প্রেস, ইউনিভার্সিটি মাঠের অবস্থা আরও করুণ। জল কমতেই থকথকে কাদা বেরিয়ে পড়েছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, খেলার উপযোগী করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। আর্মির নিয়মে ১-১৫ অক্টোবর ময়দান বন্ধ। তারপর ক্রিকেট পিচ তৈরি শুরু হবে। কিন্তু নিম্নচাপের জেরে সবকিছুর দফারফা।
এরিয়ান ক্লাবের ভিরতে জলের মধ্যে ভাসছে খেলার সরঞ্জম। (নীচে) জলমগ্ন তালতলা ইনস্টিটিউট।