


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল থেকেই ক্লাবপতাকা অর্ধনমিত। মোহন বাগান তাঁবুর জটলায় স্বজন হারানোর বেদনা। হাহাকার, চোখের জল মিলেমিশে একাকার। সবুজ লনে ঝরে পড়া ফুলে একরাশ রিক্ততা। টুটু বসু আর নেই। মঙ্গলবার গভীর রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন মোহন বাগানের প্রাণপুরুষ স্বপন সাধন বসু (৭৮)। এদিন পরম বন্ধুকে চিরবিদায় জানাল ময়দান। টুটুবাবুর শেষযাত্রায় মিশে গেল গেরুয়া, সবুজ, লাল-হলুদ রং। মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, কর্তা, কর্মী, ফুটবলারদের স্মৃতিচারণায় ময়দানের টুটুকে ঘিরে রাশি রাশি নস্টালজিয়া।
বুধবার সকালে হাসপাতাল থেকে দেহ নিয়ে যাওয়া হয় বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাড়িতে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু, বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম, মুনমুন সেন, রাইমা সেন, স্বপন দাশগুপ্তর গলায় শুধুই টুটুবাবুর কথা। মোহন বাগানের ঘরের ছেলে সুব্রত ভট্টাচার্য শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর মরদেহ আনা হয় যথাক্রমে সংবাদ প্রতিদিন অফিস এবং ভবানীপুর ক্লাবে। সেখানেও হাজির অসংখ্য অনুরাগী। পরের গন্তব্য মোহন বাগান ক্লাব। ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১১-১৫। গঙ্গাপাড়ের ক্লাবে শেষবারের জন্য এলেন মোহন বাগান জনতার ‘টুটুদা।’ নিজস্ব টেকনিকে নরমসরম মোহন বাগানকে পালটে দিয়েছিলেন তিনিই। বড় ম্যাচের আগে টুটুর অবধারিত ডায়লগ- ‘বাঙালদের ৫ গোল না দিয়ে শান্তি নেই।’ মুহূর্তে গরম গ্যালারি। আজ সবই ইতিহাস। বেলা বাড়তেই ভিড় বাড়ল আরও। প্রাক্তন ফুটবলার শ্যাম থাপা, সত্যজিৎ চ্যাটার্জি, শিশির ঘোষ, মানস ভট্টাচার্য, বিদেশ বসু, অমিত ভদ্র, শিলটন পালদের গলায় কত গল্প, কত কথা। এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ক্লাব সভাপতি দেবাশিস দত্ত, সৃঞ্জয় বসুদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথাও বলেন তিনি। এরপর টুটুবাবুকে শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘টুটুবাবু মানেই মোহন বাগান। ওঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই। মোহন বাগানকে আত্মিকভাবে আগলে রেখেছিলেন উনি। সদস্য, সমর্থকরা যেন সেইভাবেই আগলে রাখেন প্রিয় ক্লাবকে।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সমবেদনা জানান। ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে, সৌরভ গাঙ্গুলি, লক্ষ্মীরতন শুক্লা— এলেন সবাই। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ব্যারিকেড ভেঙে ছুটে এসেছিলেন লাল-হলুদ শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার, বাবলু গাঙ্গুলিরা। মহমেডান স্পোর্টিংয়ের বেলাল আমেদ, দীপেন্দু বিশ্বাসরাও উপস্থিত। সোশ্যাল সাইটে শোকপ্রকাশ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টচার্য, অভিনেতা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি প্রমুখ। বুধবার বিকেলে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।