


রায়পুর: ক্রিকেটের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রচলিত প্রবাদ- ‘ক্যাচেস উইন ম্যাচেস’। বুধবার এই সহজ পাঠটাই হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন নাইট ক্রিকেটাররা। তাই তো রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে বিরাট কোহলি ও দেবদূত পাদিক্কালের ক্যাচ ফসকালেন রভম্যান পাওয়েলরা। শেষ পর্যন্ত সেটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াল। বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে টস হেরে প্রথম ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেটে ১৯২ রান তোলে কলকাতা নাইট রাইডার্স। জবাবে ৫ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আরসিবি (১৯৪-৪)। ১০৫ রানের দুরন্ত ইনিংসে খেললেন বিরাট। আইপিএলে নবম শতরানটি সেরে ফেলেন তিনি। কেন তাঁকে ‘চেজ মাস্টার’ বলা হয়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন ভিকে। ৬ উইকেটে জয়ের সুবাদে ১২ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে ফের শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল বেঙ্গালুরু। সেই সঙ্গে কার্যত প্লে-অফের পথে পা বাড়িয়ে রাখলেন বিরাটরা। আর হেরে সেই পথ কঠিন করল কলকাতা (১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট)।
নাইটদের হয়ে আগের ম্যাচের শতরানকারী ফিন অ্যালেন (১৮) শুরুটা ভালোই করেছিলেন। কিন্তু আট বলের বেশি তিনি টেকেননি। ভুবনেশ্বর কুমারের দুরন্ত ডেলিভারিতে ফেরেন কিউয়ি ওপেনার। ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানেও (১৯) বেশিক্ষণ থাকেননি। জশ হ্যাজলউডের বলে লোপ্পা ক্যাচ তোলেন তিনি। ৪৮ রানে দুই উইকেট পড়ার পর টানেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ও ক্যামেরন গ্রিন। তৃতীয় উইকেটে ৪৬ বলে ৬৮ রান যোগ করেন দু’জনে। তবে রসিখ সালামের বলে ছিটকে যায় গ্রিনের (২৪ বলে ৩২) স্টাম্প। অঙ্গকৃশ অবশ্য থামেননি। তিন নম্বরে নেমে আগাগোড়া দায়িত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন তরুণ তুর্কি। তাঁর পঞ্চাশ আসে ৩২ বলে, পাঁচটা চার ও দুটো ছক্কার সাহায্যে। শেষ পর্যন্ত দু’রান নিতে গিয়ে ইনিংসের শেষ বলে রান আউট হন তিনি (৪৬ বলে ৭১)। রিঙ্কু সিংও (অপরাজিত ৪৯) খেললেন গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। তবে মাত্র এক রানের জন্য পেলেন না হাফ-সেঞ্চুরি। আরসিবি’র হয়ে একটি করে উইকেট নেন ভুবি, হ্যাজলউড ও রসিখ।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ঝড় তোলেন বিরাট ও জেকব বেথল (১৫)। গত দু’টি ম্যাচে শূন্য রানেই ফিরতে হয়েছিল কোহলিকে। এদিন তাই প্রথম রানের পরই উচ্ছ্বাস দেখান আইপিএলে সর্বাধিক ম্যাচ (২৭৯) খেলার রেকর্ডধারী এই কিংবদন্তি। কলকাতার বিরুদ্ধেই ধোনি ও রোহিতকে ছাপিয়ে যা তিনি। শুরুটা ভালো করেও বেথল দ্রুত ফিরলেও, বেঙ্গালুরুর রানের গতিতে কোনও প্রভাব পড়েনি। পাদিক্কালকে (২৭ বলে ৩৮) নিয়ে জয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেন বিরাট। ৩২ বলে অর্ধ-শতরান পূর্ণ করেন তিনি। আর শতরান আসে ৫৮ বলে। রজত পাটীদার করেন ১১। দুরন্ত ক্যাচে টিম ডেভিডকে (২) ফেরান মণীশ পান্ডে। কলকাতার হয়ে কার্তিক ত্যাগী একাই তিনটি উইকেট নেন।