নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পর্ণশ্রীতে বহুতলের ফ্ল্যাটে কুপিয়ে খুন করা হল অনিতা ঘোষ (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে। তিনি দূরদর্শন ও রেডিও’র সংগীত শিল্পী ছিলেন। সোমবার সকালে ফ্ল্যাটের শৌচালয়ের কাছে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ছুরি দিয়ে তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত করে খুন করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সঞ্জু সরকার নামে ওই বাড়ির এক প্রাক্তন আয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পর্ণশ্রী থানা। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় অনিতাদেবীকে খুন করা হয় বলে ওই আয়া পুলিশকে জেরায় জানিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিতাদেবী ও তাঁর স্বামী এই ফ্ল্যাটের দুতলায় থাকতেন। একমাত্র ছেলে থাকেন মহেশতলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে। অনিতার স্বামী অরূপ ঘোষ দূরদর্শন ও রেডিওতে বড়ো পদে চাকরি করেছেন। বর্তমানে তিনি পক্ষঘাতগ্রস্ত, শয্যাশায়ী। তাঁকে দেখভালের জন্য দু’জন আয়া ছিল। বারো ঘণ্টা করে ডিউটি করতেন। একজন রান্নার লোকও রয়েছে। রবিবার রাতে রান্নার লোক কাজ শেষে ফিরে যাওয়ার সময় সুস্থ দেহেই ছিলেন অনিতাদেবী। স্থানীয়রা পুলিশকে জানিয়েছেন, সকালে এক আয়া কাজে আসেন। ঘরের ভিতর থেকে অনিতাদেবীর আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীদের খবর দেন। তাঁরাও অনিতাদেবীর আর্তনাদ শুনতে পান। বন্ধ দরজায় ধাক্কা দেওয়া হলেও, কেউ তা খুলতে না আসতেই সন্দেহ বাড়ে। এই পর্বেই ওই বাড়ির প্রাক্তন আয়া সঞ্জু ভিতর থেকে দরজা খুলে প্রতিবেশীদের বলে, কেউ একজন অনিতাদেবীকে খুন করে পালিয়েছে। তার কথায় সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়রা সঞ্জুকে আটক করেন। তার কাছে থাকা ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে প্রতিবেশীরা দেখেন, তাতে সোনার অলঙ্কার ও নগদ টাকা রয়েছে। স্থানীয়দের কয়েকজন উপরে উঠে দেখেন, শৌচালয়ের কাছে পড়ে রয়েছেন ওই বৃদ্ধা। মেঝে রক্তে ভেসে যাচ্ছে। চিবুক, গাল, পেটে, বুক সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়েছে।
অভিযুক্ত আয়া সঞ্জুকে জেরা করে পুলিশ জেনেছে, এই বাড়িতে একসময়ে কাজের সুবাদেই সে অনিতাদেবীকে চিনত। এদিন সকাল আটটা নাগাদ ওই বাড়িতে সে আসে। তাকে দেখে দরজা খুলে দেন বৃদ্ধা। তিনি ভেবেছিলেন আয়া সেন্টার থেকে তাকে আবার পাঠানো হয়েছে। ফ্ল্যাটে এসে সে অনিতাদেবীর কাছে টাকা চায়। কিন্তু বৃদ্ধা দিতে অস্বীকার করেন। তারপর রান্নাঘরে দৌড়ে গিয়ে সেখান থেকে ছুরি নিয়ে এসে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে অনিতাদেবীকে। বৃদ্ধা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শরীরের নানা অংশে ছুরি চালানোর পর সরাসরি তা পেটে গেঁথে দেয় সে। তাতেই মৃত্যু হয় অনিতাদেবীর। অভিযুক্তের দাবি, বাড়িতে টানাটানি চলায় সে টাকা চাইতে এসেছিল। কিন্তু টাকা চেয়েও প্রত্যাখ্যাত হওয়াতেই, উত্তেজিত হয়ে সে খুন করেছে।