নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নবতিপর বৃদ্ধার পরিচর্যায় থাকা মহিলা অ্যাটেনডেন্ট সোনার গয়না ও বিস্কুট চুরির পর তা গলিয়ে ফেলে। তাই দিয়ে আবার নতুন অলঙ্কার তৈরি করে সেগুলি বন্ধক রেখে স্বর্ণঋণদানকারী সংস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিল। চুরির অভিযোগ হতেই মহিলা অ্যাটেনডেন্ট টুনটুনি মণ্ডলকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করল যাদবপুর থানা। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ৫২ হাজার টাকা।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছ, নব্বই বছরের ওই বৃদ্ধা অনেকদিন ধরেই বিছানায় শয্যাশায়ী। ২০২৪ সালের গোড়ায় বৃদ্ধার পরিবারের লোকজন সর্বক্ষণের একজন অ্যাটেনডেন্টের খোঁজ করছিলেন। স্থানীয় সূত্র মারফত তাঁরা টুনটুনি মণ্ডল নামে এক অ্যাটেনডেন্টের খোঁজ পান। টুনটুনি মাসিক কুড়ি হাজায় পারিশ্রমিকে কাজ করতে রাজি হয়। বৃদ্ধার সঙ্গে সে সারাক্ষণ থাকত। সেই সময়ই দেখে নেয়, ঘরের আলমারির চাবি ঠিক কোথায় থাকে। আর কোন আলমারিতে রয়েছে সোনার গয়না, বিস্কুট ও নগদ। পুলিস জানিয়েছে, পরিবারের লোকজন কাজে বেরিয়ে গেলেই, আলমারি খুলে সেখান থেকে অল্প অল্প করে প্রতিদিন সোনার গয়না হাতানো শুরু করে টুনটুনি। গয়না চুরির বিষয়টি বাড়ির লোকজন প্রথমে বুঝতে পারেনি। এরমাঝে টাকার টান পড়ায় ওই বাড়ির আলমারিতে থাকা ৯০ হাজার টাকাও চুরি করে টুনটুনি।
পুলিসের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, চুরির এই ঘটনাই টনটুনির মুখোশ খুলে দেয়। ওই বৃদ্ধার পরিবারের লোকজনের টাকার দরকার পড়ায় আলমারি খুলে তাঁরা দেখেন, টাকা উধাও! এরপর অন্য আলমারি খুলেও চোখ কপালে ওঠে। সেখানে থাকা অলঙ্কার ও সোনার বিস্কুটও উধাও! ঘরে বাইরের কারও প্রবেশাধিকার ছিল না, তাই তাঁদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি, কার এ কাজ! টুনটুনির নামে অভিযোগ করা হয় যাদবপুর থানায়। তদন্তে নেমে মোবাইলের সূত্র ধরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সোনার গয়না ও বিস্কুট হাতানোর পর টুনটুনি সেগুলি বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর সমস্ত কিছু স্থানীয় একটি দোকানে গলিয়ে ফেলে। ওই সোনা দিয়ে হলমার্কযুক্ত গয়না তৈরি করে। কিছু গয়না মেয়ের বিয়ের জন্য রেখে, বাকিটা বন্ধক রেখে টাকা ধার নেয়। অভিযুক্ত পক্ষের তরফে লিগ্যাল এডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন ঘটনাটি ২০২৪’এর। এতদিন পর কেন অভিযোগ আনা হচ্ছে! তিনি টুনটুনির জামিন চান। যদিও সরকারি আইনজীবী সৌরিন ঘোষাল জামিনের বিরোধিতা করেন। অভিযুক্তকে পুলিসি হেফাজতে পাঠায় আদালত।