Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহালয়ায় মহিষাসুরমর্দিনী পালা হবে চারণ কবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতিধন্য আনন্দময়ী কালীবাড়িতে, ৯৪ বছরের পুরনো এই দুর্গাপুজোয় আকর্ষণ কলা, শসা বলি ও যজ্ঞ

চারণ কবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতিবিজরিত শিলিগুড়ির সেই আনন্দময়ী কালীমন্দিরে মহালায়ার দিন মঞ্চস্থ হবে মহিষাসুরমর্দিনী পালা

মহালয়ায় মহিষাসুরমর্দিনী পালা হবে চারণ কবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতিধন্য আনন্দময়ী কালীবাড়িতে, ৯৪ বছরের পুরনো এই দুর্গাপুজোয় আকর্ষণ কলা, শসা বলি ও যজ্ঞ
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বিপ্লবীদের ডেরা। তাঁদের হাতেই তৈরি কালীমন্দির। চারণ কবি মুকুন্দ দাসের স্মৃতিবিজরিত শিলিগুড়ির সেই আনন্দময়ী কালীমন্দিরে মহালায়ার দিন মঞ্চস্থ হবে মহিষাসুরমর্দিনী পালা। তা সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হবে। একই সঙ্গে প্রাচীন রীতি মেনে বৈষ্ণবমতে হবে দুর্গাপুজো। ৯৪ বছরের পুরনো এই পুজোর অষ্টমীতে কলা, শসা, চালকুমড়া ও আঁখ বলি এবং নবমীতে হবে যজ্ঞ। এনিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্দির পরিচালন কমিটি।

Advertisement

শিলিগুড়ি শহরের প্রাচীন মন্দিরগুলির মধ্যে আনন্দময়ী কালীবাড়ি অন্যতম। কথিত আছে, তৎকালে শিলিগুড়ি টাউন স্টেশনের পাশে ছিল জঙ্গল। ব্রিটিশ আমলে সেখানে ছিল বিপ্লবীদের ডেরা। সেখানে শরীর চর্চা, লাঠি খেলা থেকে ব্রিটিশ সরকারকে অপসারিত করার বিষয়ে শলাপরামর্শ করা হতো। গোপন চিঠি চালাচালি হতো সেখান থেকে। সেখানে কালীমন্দির তৈরি করেছিলেন বিপ্লবীরা। পরবর্তীতে সেখানে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। এবার মহালয়ায় সেই মন্দিরে মহিষাসুরমর্দিনী পালা অনুষ্ঠিত হবে।
আনন্দময়ী কালীবাড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর মহালয়া। ওইদিন সকাল থেকেই মন্দিরে নানা অনুষ্ঠান হবে। মূল অনুষ্ঠান হবে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। স্থানীয় একটি সংস্থা নাচ ও গানের মধ্যদিয়ে মহিষাসুরমর্দিনী পালা মঞ্চস্থ করবে। এছাড়া, চণ্ডীপাঠ, ভুক্তিমুলক গান হবে। সমগ্র অনুষ্ঠান সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মন্দিরের দুর্গাপুজোও ঐতিহ্যবাহী। ৯৪ বছর আগে মাটির প্রতিমা দিয়ে এখানে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। গত বছর এখানে ১০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট মার্বেল পাথরের দুর্গামূর্তি বসানো হয়েছে। এখানে নিত্যপুজো হয়। প্রাচীন নিয়ম ও রীতি মেনে দুর্গাপুজোও হবে। আনন্দময়ী কালীবাড়ি সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, রাজস্থান থেকে মার্বেল পাথর এনে দশভূজার ওই মূর্তি গড়া হয়। ভক্তদের দাবি ও পুরোহিতদের বিধান মেনেই ওই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। মার্বেল পাথরের দুর্গা মায়ের সঙ্গে লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ রয়েছেন। এবার ষষ্ঠীতে বেল গাছের নীচে পুজো করে দুর্গাপুজোর সূচনা করা হবে। কলাবউ পুজো, অষ্টমীতে কলা, চালকুমড়ো, আঁখ, শসা প্রভৃতি বলি দেওয়া হবে। নবমীতে শালকাঠ, ঘি, আমপাতা, তিল প্রভৃতি দিয়ে যজ্ঞ করা হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯২১ সালে এখানে কালীপুজোর সূচনা হয়। ১৯২৬ সাল নাগাদ চারণ কবি মুকুন্দ দাস হাটখোলায় পালাগান করেন। সেখান থেকে সংগৃহীত অর্থের ৫০ শতাংশ তিনি মন্দির তৈরির জন্য দান করেন। তিনিই মন্দিরের নামকরণ করেন আনন্দময়ী। পরবর্তীতে কাশি থেকে কষ্টিক পাথরের কালী মূর্তি এনে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেন কবি। ১৯৩১ সালে এখানে দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। 
 আনন্দময়ী কালীবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা। - ফাইল চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ