সংবাদদাতা, কালনা: আজ, বুধবার সপ্তমী থেকে শুরু হচ্ছে কালনার আড়াইশো বছরের প্রাচীন মহিষমর্দিনী মাতার পুজো। চলবে চারদিন। মেলা চত্বর ও ভাগীরথী নদীর ফেরিঘাটগুলিতে আঁটোসাঁটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। সিসি ক্যামেরায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মন্দির ও মেলা চত্বর। কয়েক কেজি সোনা রুপোর অলঙ্কারে সাজিয়ে তোলা হয়েছে মাকে। বিশাল এলাকাজুড়ে বসেছে মেলা। মঙ্গলবার মেলা চত্বর ঘুরে দেখেন জেলা পুলিশ সুপার পুষ্পা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা। তাঁরা পুজো কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। মঙ্গলবার মায়ের স্বর্ণালঙ্কারের অঙ্গসাজ দেখতে বহু দর্শনার্থী ভিড় করেন।
কালনার প্রাচীন বৃহত্তম উৎসব মহিষমর্দিনী মাতার পুজো। প্রাচীন রীতি মেনে প্রতি বছরের মতো এবারও থাকছে মায়ের পুজোর পাশাপাশি ঢাংয়ের পুতুল নাচ, যাত্রাপালা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকবে কয়েক হাজার ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা। ত্রিশ ফুট উচ্চতার লোহার তৈরি প্রাচীন নহবৎখানায় আলোর রোশনাইয়ে সানাইয়ের সুরের মুর্চ্ছনা ও ঢাকের বাজনায় সরগরম পুজো মণ্ডপ চত্বর। চারদিন ধরে মায়ের পুজো দিতে হাজার হাজার ভক্তের ভিড় হয়। তাই মায়ের পুজো দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারির সঙ্গে প্রবীণদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকছে।
কালনার এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও নিরাপত্তার সব রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নদীপথে নজরদারি থাকবে। নদীয়ার দিক থেকে কালনা ফেরিঘাট দিয়ে বহু দর্শনার্থী আসেন। তাই ফেরিঘাট গুলিতে আলদা নজরদারি রাখা হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় নজরদারি থাকবে। পুজোর দিনগুলিতে শহরের কিছু কিছু রুটে নো-এনট্রি থাকছে।
পুজো কমিটির যুগ্ম সম্পাদক অমরজ্যোতি কুণ্ডু বলেন, মায়ের পুজো কালনার ঐতিহ্য। প্রাচীন রীতি মেনে সব আয়োজন হয়েছে। চারদিন শান্তিপুর্ণ পরিবেশে বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।-নিজস্ব চিত্র