সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: কড়া নিরাপত্তায় মোড়া ইডেন চত্বর। ক্রিকেটপ্রেমীদের তল্লাশি চলছে জোরকদমে। পার্কিং লটেও রয়েছে বোম্ব স্কোয়াড। ইডেনে আইপিএল ম্যাচ তো ফি বছরই হয়। কিন্তু এমন কড়া নিরাপত্তা চোখে পড়ে না! কারণটা জানা গেল সিএবি প্রেসিডেন্টের মুখ থেকেই। আসলে বুধবার কলকাতা-চেন্নাই ম্যাচের আগে ইডেনে বোমাতঙ্ক। বিকেলে সেরকমই একটি ই-মেল এসেছে সিএবি’তে। বিষয়টি পুলিসকে জানাতেই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। তবে বোমাতঙ্কের মেল ভুয়ো হলেও, ইডেনে কেকেআর শিবিরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক চালাল চেন্নাই সুপার কিংস। নাইটদের ২ উইকেটে হারিয়ে কার্যত প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে দিয়েছে ধোনির দল। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে কলকাতা নাইট রাইডার্স তুলেছিল ৬ উইকেটে ১৭৯। জবাবে ২ বল বাকি থাকতেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় চেন্নাই (১৮৩-৮)। এই হারের পর ১২ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে ষষ্ঠ স্থানেই রইল কেকেআর। এমন পরিস্থিতিতে কোনও মিরাকেল ছাড়াস রাহানেদের প্লে-অফে পৌঁছনো অসম্ভব।
অথচ রান তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে’তেই পাঁচ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল চেন্নাই সুপার কিংস (৬২-৫)। ডাগ আউটে ফিরেছিলেন যথাক্রমে আয়ূষ মাতরে (০), কনওয়ে (০), উর্বিল (৩১), অশ্বিন (৮),জাদেজা (১৯)। তখন ইডেনের গ্যালারি ভেবেই নিয়েছিল, কেকেআরের জয়ের হ্যাটট্রিক নিশ্চিত। কিন্তু, সব হিসেব উলট-পালট করে দিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে চেন্নাইকে রীতিমতো ভেন্টিলেশন থেকে বের করে আনেন তিনি। ১১তম ওভারে তো বৈভবকে কাঁদিয়ে ছেড়েছেন। ৬,৪,৪,৬,৬,৪ সহ মোট ৩০ রান নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ‘বেবি এবি।’ উল্লেখ্য, এবি ডি’ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং স্টাইলের সঙ্গে সাদৃশ্য থাকায় ক্রিকেটমহলে এই নামে পরিচিত তিনি। মাত্র ২২ বলে অর্ধশতরান করা ‘বেবি এবি’র ইনিংস শেষ পর্যন্ত থামান বরুণ চক্রবর্তী। আর দক্ষিণ আফ্রিকার এই তরুণ তুর্কি আউট হতেই গর্জে ওঠে ইডেন। না ব্রেভিসের আউটের আনন্দে নয়! মহেন্দ্র সিং ধোনি যে ক্রিজে আসছেন। এরপর শিবম দুবেকে নিয়ে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেন মাহি। কিন্তু ১৯তম ওভারে শিবম দুবে (৪৫) আউট হলে ম্যাচ নাটকীয় মোড় নেয়। শেষ ওভারে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের প্রয়োজন ছিল ৮ রানের। রাসেলের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ফেলেন ফিনিশার ধোনি (১৭)। এরপর তিনি সিঙ্গল নিলে স্কোর সমান। আর চতুর্থ বলে অংশুল বাউন্ডারি হাঁকিয়ে নাইটদের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন।
প্লে-অফের জন্য বাকি সবক’টি ম্যাচই জিততে হবে। এমন সমীকরণ মাথায় নিয়ে বুধবার খেলতে নামা নাইট-ব্রিগেডের দল নির্বাচনেও চমক ছিল। অফ ফর্মে থাকা বেঙ্কটেশ আয়ারকে দলেই রাখা হয়নি। আর প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার গুরবাজ (১১) রান না পেলেও কেকেআরের ভিত গড়ে দেন অজিঙ্কা রাহানে। মাত্র ৩৩ বলে তাঁর সংগ্রহ ৪৮। অবশ্য বড় রান পাননি নারিন (২৬) ও অঙ্গকৃষ (১)। চেন্নাইয়ের হয়ে নুর আহমেদ একাই নেন চার উইকেট। তাঁর স্পিনের ধাঁধায় একের পর এক উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসেন নাইট ব্যাটাররা। তবে শেষ দিকে কেকেআরে স্কোর ১৮০ রানের কাছাকাছি নিয়ে যান রাসেল (৩৮) ও মণীশ পান্ডে (অপরাজিত ৩৬)। তবে তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। অর্থাত্, প্লে-অফের আশা কার্যত শেষ। চলতি মরশুমে কেকেআরের এমন ভরাডুবির দায় নিতে হবে ম্যানেজমেন্টকে। শ্রেয়স, সল্টদের ছেড়ে বেঙ্কটেশের জন্য ২৩.৭৫ কোটি খরচের কোনও যুক্তিই বোধগম্য হচ্ছে না বিশেষজ্ঞদের। উল্লেখ্য, এদিন ম্যাচ শুরুর আগে ইডেনে বাজে জাতীয় সঙ্গীত। ‘অপারেশন সিন্দুর’-র হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যা তাৎপর্যপূর্ণ। জায়ান্ট স্ক্রিনে সেনাবাহিনীকে ‘স্যালুট’ও জানানো হয়।