Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হার্মাদদের হাতে খুন হয়েছিলেন মহেশ্বর, একুশে জুলাইয়ে মনে পড়ে ঝাড়গ্রামের

হার্মাদদের হাতে খুন হয়েছিলেন মহেশ্বর, একুশে জুলাইয়ে মনে পড়ে ঝাড়গ্রামের
  • ১৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: একুশে জুলাই এলেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মনে পড়ে যায় মহেশ্বর ঘড়াইয়ের কথা। ২০১১ সালে ঝাড়গ্রাম শহরে সিপিএমের হার্মাদদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছিলেন তিনি। মহেশ্বর খুনে মূল অভিযুক্ত এখন শহর বিজেপির সভাপতি। ছেলের খুনিদের বিচারের আশায় এখনও দিন গুনছেন মহেশ্বরের বৃদ্ধা মা। 
বাংলায় তখন পালাবদলের ঝড়। বেগতিক বুঝে জেলায় জেলায় কমরেডরা জোড়াফুল শিবিরে ঢোকার জন্য লাইন দিয়েছেন। কিন্তু ঝাড়গ্রামে এই সুযোগ সন্ধানীদের পথের কাঁটা হয়ে উঠেছিল দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করা তৃণমূল নেতাকর্মীরা। মহেশ্বর গড়াইয়ের মতো তৃণমূল কর্মীরা সিপিএমের নেতাকর্মীদের দলে ঢুকতে বাধা দিচ্ছিলেন। যার মূল্য চোকাতে পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে রাত সাড়ে এগারোটার সময়ে তিনি খুন হয়ে যেতে হয় তাঁকে। পিস্তলের বাঁট দিয়ে মেরে তাঁর মাথার ঘিলু বের করে দেওয়া হয়েছিল। সিপিএমের অমিত দাস, রাহুল দাস, সুজন গায়েন, সমীর হালদার, অন্তু রায় ও দুর্গা দাসের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগে ওঠে। অন্যতম অভিযুক্ত অমিত দাস ২০১৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি ঝাড়গ্রাম শহর বিজেপির সভাপতি। 
জেলার এক তৃণমূল নেতা বলেন, সেই ঘটনা ভুলে যাইনি। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল বিপুল মার্জিনে জয়লাভ করতেই সিপিএমের স্থানীয় নেতাকর্মীরা দলে ঢোকার চেষ্টা করছিল। নেতৃত্বের একাংশ কিছু কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দিতে চাইলেও মহেশ্বর এই বিষয়ে অনড় ছিল। পার্টি অফিসে এই  নিয়ে অশান্তিও হয়েছে। টালমাটাল ওই পরিস্থিতিতে ওকে সতর্ক থাকতে বলেছিলাম। সাহসী ছিল। যার জেরে প্রাণ দিতে হয়। প্রধান অভিযুক্ত অমিত দাস বলেন, ঘটনার সময়ে আমি ছিলাম না। আমার নামে মিথ্যা অভিযোগে করা হয়। বর্তমানে বিজেপির শহর সভাপতির দায়িত্বে আছি। মামলা চলছে। রায় বের হলে সত্য ঘটনা প্রকাশ পাবে। তবে সেই মামলায় সাক্ষীদের প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সহ সভাপতি প্রসূণ ষড়ঙ্গি বলেন, জেলার বহু নেতাকর্মী দলের জন্য প্রাণ দিয়েছেন। শহিদ দিবস এলেই দলের যেসব কর্মীদের আমরা হারিয়েছি তাঁদের কথা মনে পড়ে যায়। প্রধান অভিযুক্তরা রং পাল্টে ফেলেছে। বিজেপি তাদের আশ্রয় দিয়েছে। খুনের মামলায় অভিযুক্ত একজনকে দলের বড় পদ দেওয়া নিয়ে ঝাড়গ্রাম জেলা বিজেপির সভাপতি তুফান মাহাত বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। মহেশ্বরের মা বৃদ্ধা ভবানী ঘড়াই বলেন, সন্তান হারানোর শোক নিয়ে বেঁচে আছে। স্বামী হারিয়ে বউমা পাথর হয়ে গিয়েছে। মেয়ে তাঁর বাবাকে দেখতে পেল না। জীবিত অবস্থায় বিচার পাব কি না, জানি না।

Advertisement

(মহেশ্বর ঘড়াইয়ের বাড়ি।-নিজস্ব চিত্র)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ