Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মহেশতলার নবারুণ সংঘের থিম শৈশব ঢাকা পড়েছে ব্যাগের চাপে, আকড়া ভ্রাতৃ সংঘে লেজার শো

চতুরাশ্রমের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রম হল গৃহস্থাশ্রম। সংসার জীবনের এই আশ্রম বাকি তিনটি আশ্রমকে পালন ও পোষণ করে আসছে

মহেশতলার নবারুণ সংঘের থিম শৈশব ঢাকা পড়েছে ব্যাগের চাপে, আকড়া ভ্রাতৃ সংঘে লেজার শো
  • ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: চতুরাশ্রমের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রম হল গৃহস্থাশ্রম। সংসার জীবনের এই আশ্রম বাকি তিনটি আশ্রমকে পালন ও পোষণ করে আসছে। শাস্ত্র ও পুরাণে এমনটাই বলা হয়েছে। আসলে সংসার জীবন সঞ্চয় ছাড়া পালন ও পোষণ যে সম্ভব নয়, তা হাতেকলমে শিখিয়েছে। মহেশতলা পুরসভার আকড়ার ভাতৃসংঘ সেই ‘সঞ্চয়’কে তাদের ৮৭তম পুজোর ভাবনা হিসেবে এবার তুলে ধরেছে। তার আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। সঞ্চয়ের জন্য অতীত দিন থেকে এখন পর্যন্ত ঘরে ও বাইরে কর্মক্ষেত্রে যে সমস্ত জিনিস ব্যবহার করা হয়েছে। সেই সব যথা লক্ষ্মীর ঘট, কাঠ এবং লোহার সিন্দুক, স্টিলের ছোট ও বড় বাক্স, আলমারি সবই মডেলের মাধ্যমে মণ্ডপের বাইরে এবং ভিতরে তুলে ধরা হয়েছে। 

Advertisement

সংঘের সভাপতি তাপস চক্রবর্তী এবং সম্পাদক দুলাল ঠাকুরতা বলেন, ‘এখন ও আগামী প্রজন্মের কাছে সঞ্চয়ের বিষয়টি জানানোর জন্য এই প্রয়াস। এছাড়াও বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে লেজার শোয়ের ভিতর দিয়ে পুরাণের ঘটনা মনে করিয়ে দিতে প্রজাপতি দক্ষের গৃহে সতীর জন্ম থেকে দেহত্যাগ, পরিণতি শিব তাণ্ডব এবং দেবী দুর্গার আগমন হিসেবে মহালয়ার প্রেক্ষাপট। মহেশতলার বারোয়ারি পুজোর ইতিহাসে এই প্রথম লেজার শোয়ের মাধ্যমে এমন ঘটনা দেখানোর এই বিশেষ পরিকল্পনা করেছে ভাতৃসংঘ। এছাড়াও থাকছে কারগিল যুদ্ধ।’
আকড়া ফেরিঘাট রোডের নবারুণ সংঘের ভাবনা হল ‘স্বপ্ন দেখে মন’। শিশুর শৈশব মনোজগতে শুধুই স্বপ্ন বিচরণ করে। দু’চোখে অচেনা জগৎকে নানাভাবে শৈশব দেখতে ও শুনতে চায়। তাতে আকাশের চাঁদ কখনও মামা হিসেবে ধরা দেয়। কখনও চাঁদের ভিতর বুড়ির সুতো কাটার গল্প শোনে। সংঘের কালচারাল সেক্রেটারি রঞ্জন সেন বলেন, ‘শৈশব মানেই কল্পনার স্বপ্ন। যার ভিতর রয়েছে এই প্রকৃতি, ফুল, ফল থেকে আকাশ, পাখি ও বন্য পশু। যাকে ঘিরেই শৈশব। ঠাকুরমা এবং ঠাকুরদারা এই শৈশবকে আরও প্রস্ফুটিত করেছেন। ফলে শিশু মনে ধরা দিয়েছে তেপান্তরের মাঠ, পরী থেকে দৈত্যদানব, রাজপুত্র ও রাজকন্যার গল্প। কিন্তু এখন সেই স্বপ্ন চোখের সামনে থাকলেও শৈশব তা ধরতে পারছে না। কারণ পড়ার চাপ। প্রতিদিন পিঠে ভারী বইয়ের চাপ, টিউশন, কম্পিউটার, সাঁতার, ক্যারাটে অনুশীলনে ব্যস্ত। মণ্ডপের বাইরে ও ভিতরে বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তুলে ধরা হচ্ছে। আমাদের দুর্গা এখানে অসুরনাশিনী নয়। তাঁর কোলে বসে লক্ষ্মী ও সরস্বতী। সামনে কার্তিক ও গণেশ কাঁধে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে। তুলে ধরা হয়েছে মাতৃপ্রেম।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ