সংবাদদাতা, বজবজ: মহেশতলার জমি মাফিয়া তথা এলাকার ত্রাস হাজি জাহাঙ্গির ও তার ঘনিষ্ঠ শেখ বাপ্পাকে পাকড়াও করল পুলিস। পাশাপাশি তাদের অনুগত আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মহেশতলা পুরসভার ব্যানার্জিহাটে প্রাসাদোপম চারতলা বাড়িতে বসেই জাহাঙ্গির জমি দখলের চক্র চালাত। শুধু তাই নয়, তার পরিকল্পনা মতো বিভিন্ন জায়গায় চলত সিন্ডিকেটরাজ। সেই সিন্ডিকেটকে নেতৃত্ব দিত শেখ বাপ্পা। অভিযোগ, তৃণমূলের এক যুবনেতার ঘনিষ্ঠ ছিল তারা।
বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি তমোনাশ ভৌমিকের অভিযোগ, ভোট লুট থেকে জোর করে জমি দখল, পুকুর ভরাট, সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি সহ সব ধরনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। এই চক্রের লোকজন মহেশতলার যুব তৃণমূলের সভাপতি শুভ নাগচৌধুরীর অনুগামী। এতদিন এলাকার মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারতেন না। এখন পালাবদল হতেই এক এক করে অভিযোগ সামনে আসছে। ধৃতদের পুলিস হেপাজতে রেখে জেরা করা হচ্ছে। তারা কোথায় কোথায় তোলাবাজি করেছে, কত জমি দখল করেছে, সিন্ডিকেট থেকে কত রোজগার হয়েছে— সব জানার চেষ্টা করছে পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, বাপ্পাকে সামনে রেখে মহেশতলায় মস্তানি চালাত জাহাঙ্গির। তাদের জেরা করেই পুলিস জানতে পারে, শুভ নাগচৌধুরীর দলীয় অফিসে পেটি পেটি মদের বোতল, লাঠি, তলোয়ার, বল্লম মজুত করা রয়েছে। পুলিস সেই কার্যালয়ে হানা দিয়ে সেগুলি উদ্ধার করেছে। এই ঘটনার পর থেকে যুব নেতা ও কাউন্সিলার শুভ নাগচৌধুরী বেপাত্তা। তমোনাশ ভৌমিক বলেন, অনেকদিন ধরেই এই চক্র ‘দাদাগিরি’ চালাচ্ছিল। তাদের দৌরাত্ম্য সবচেয়ে বেশি ছিল চট্টা শিল্পতালুকে। মহেশতলার বিধায়ক শুভাশিস দাস বলেন, সব অভিযোগই সাজানো ও মিথ্যা।