বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ:
বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ:
কালীপুজোর দিন প্যান্ডেল হপিং করতে হলে মহেশতলায় আসতেই হবে। এখানে কোথাও সিকিমের শিব মন্দির, কোথাও পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদুয়ার, কোথাও আবার বুদ্ধ মন্দির— মহেশতলা যেন হয়ে উঠেছে মন্দির নগরী।
মোল্লার গেটের অদূরে বিধায়ক দুলাল দাসের বাড়ির কাছে সন্তোষপুরের গভর্নমেন্ট কলোনির এ ব্লকের কালীমণ্ডপ এবার বুদ্ধ মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তা দেশপ্রেমিক সংঘ। বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি, এই ভাবনা থেকেই তৈরি হয়েছে এই মণ্ডপ। বিধায়ক পুত্র তথা কাউন্সিলার শুভাশিস দাস এই কালীপুজোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। ৫১ বছরে পা দিল এই পুজো। শুভাশিসবাবু বলেন, এখন বিশ্বজুড়ে এক অস্থির অবস্থা চলছে। হিংসার বাতাবরণে দূষিত মানবজমিন। একমাত্র ভগবান বুদ্ধের অহিংস ভাবনাই তা থেকে মুক্ত করতে পারে। এই বার্তাই আমরা দিতে চেয়েছি কালীপুজোকে কেন্দ্র করে। মা কালী এখানে সাবেকি সাজে থাকবেন।
১১ নম্বর ওয়ার্ডের রামপুর কালীমন্দির বাস স্ট্যান্ডের গায়ে বড় মণ্ডপ তৈরি করেছে বালক সংঘ। থিমের নাম পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের সিংহদুয়ার। এই পুজো কমিটির সভাপতি স্থানীয় কাউন্সিলার দীপিকা দত্ত। তাঁর কথায়, কালীপুজোর ৪৬তম বর্ষে এটাই আমাদের চমক। কোষাধ্যক্ষ শৌমিক মণ্ডল বলেন, এমনভাবে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে, যাতে বাইরে থেকেও মাকে দর্শন করা যায়। তাঁর দাবি, পুরীর সেই সিংহদুয়ারে নানা ধরনের কারুকাজ রয়েছে। তা নিখুঁতভাবে উপস্থাপিত করার জন্য পেশাদার শিল্পী অভীক বিশ্বাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বজবজ ট্রাঙ্ক রোডের উপর নুঙ্গি মোড়ের কাছে ইএসআই হাসপাতাল। তার বাইরে পূর্তদপ্তরের জমিতে তৈরি হয়েছে আড়াইতলা সমান শিবমন্দির। নব জাগরণ ক্লাব সিকিমের শিব মন্দিরের অনুকরণে এটি তৈরি করেছে। ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের এই পুজো আবার ১৭তম বর্ষে পা দেবে। এর যাবতীয় পরিকল্পনা মহেশতলা পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সুকান্ত বেরার। তিনিই এই পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তিনি বলেন, মণ্ডপ ও সংলগ্ন রাস্তার উভয় দিকে আলোর গেট বসানো হচ্ছে। আলোর সাজে চন্দননগরের শিল্পীরা। প্রতিমা শিল্পী কুমোরটুলির ভোলানাথ পাল। ১৯ অক্টোবর বিকেলে ঘটা করে উদ্বোধন। সব মিলিয়ে কালীপুজোকে ঘিরে জমজমাট মহেশতলা।