Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

আত্মতুষ্টির খেসারত দিতে হল মহেশদের

ডার্বি জয়ের পরের ম্যাচেই পদস্খলন। সেই ছেলেবেলা থেকে এই ঘটনা দেখে আসছি। বুধবারও অন্যথা হল না। এই ম্যাচ মনে করাল ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপ ফাইনালের স্মৃতি।

আত্মতুষ্টির খেসারত দিতে হল মহেশদের
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

তুষার রক্ষিত: ডার্বি জয়ের পরের ম্যাচেই পদস্খলন। সেই ছেলেবেলা থেকে এই ঘটনা দেখে আসছি। বুধবারও অন্যথা হল না। এই ম্যাচ মনে করাল ১৯৯৭ সালের ফেডারেশন কাপ ফাইনালের স্মৃতি। সেবার সেমি-ফাইনালে অমল দত্তের প্রশিক্ষণাধীন মোহন বাগানকে আমরা ৪-১ গোলে চূর্ণ করি। বাইচুং ভুটিয়ার হ্যাটট্রিক তো ইতিহাসে লেখা আছে। ডায়মন্ড সিস্টেমকে ভেঙেচুরে আমরা ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের প্রত্যাশা বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ফাইনালে সালগাওকরের বিরুদ্ধে ফেভারিট হিসেবে নেমেও হার মেনেছিলাম। সেদিন ব্রুনো কুটিনহোর জোড়া গোলই স্তব্ধ করে দেয় লাল-হলুদ গ্যালারির গর্জন। 

Advertisement

চলতি ডুরান্ড কাপে ইস্ট বেঙ্গলের খেলা বেশ ভালোই লাগছিল। কোয়ার্টার-ফাইনালে পরিকল্পনামাফিক ফুটবল খেলে অস্কার ব্রুজোঁর দল বশ মানায় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানকে। কিন্তু বুধবার দিয়ামানতাকোসদের পারফরম্যান্সে সেই আগুনে ব্যাপারটি ছিল না। ফুটবল এমনই। খেলতে পারলে হিরো, না হলে জিরো। এবার গ্রিক স্ট্রাইকারটি নিশ্চয়ই তা বুঝবে। আসলে বড় ম্যাচের উত্তাপ সহজে গা থেকে ঝেড়ে ফেলা যায় না। আর জিতলে আত্মতুষ্টি আসাটাই স্বাভাবিক। সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে বেশি উদ্যোগ নিতে হয় ফুটবলারদেরই। এছাড়া রয়েছে কোচ ও কর্তাদের পেপটক। এই ম্যাচে মিগুয়েল-মহেশদের  মধ্যে আত্মতুষ্টির ছাপ ছিল। ডায়মন্ডহারবারের কোচ কিবু ভিকুনা জানতেন, প্রতি-আক্রমণে গোল তুলে নিতে পারলে ইস্ট বেঙ্গল চাপে পড়বে। ম্যাচে সেটাই হয়েছে। লাল-হলুদ রক্ষণ এদিন নির্ভরতা দিতে ব্যর্থ। মরশুম সবে শুরু হয়েছে। এখনই কড়া সমালোচনা করা উচিত নয়। তবে অস্কার নিশ্চয়ই তাঁর রক্ষণকে আরও মজবুত করার দিকে জোর দেবেন। এদিন ইস্ট বেঙ্গল দু’টি গোলই হজম করেছে ডিফেন্ডাদের ব্যর্থতায়। তবে একটা কথা বলতেই হবে, জয়ের ভাগ্য ছিল না মহেশদের সঙ্গে। অনেকেই বলবেন, সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হল শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবকে। তাঁরা আংশিক ঠিক। মহেশ ও মিগুয়েলের দুরন্ত প্রয়াস পোস্ট ও ক্রসবারে ধাক্কা না খেলে শনিবার নর্থইস্টের সামনে ইস্ট বেঙ্গলই থাকত। 
সবশেষে বলব, এই হারে ভেঙে পড়ার কিছু নেই। ব্যর্থতার মধ্যে থেকেই আলোর রেখা খুঁজে নিতে হয়। আর ডায়মন্ডহারবারের এই উত্থান তো বাংলার ফুটবলের সার্থক বিজ্ঞাপন। ফাইনালে নর্থইস্ট ইউনাইটেডকে হারাতে পারলেই ভারতীয় ফুটবলের মানচিত্রে তাদের স্থান পাকা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ