সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মহারাষ্ট্রের শ্রমিকের কান কাটার ঘটনায় নলহাটি থানায় অভিযোগ দায়ের হল। বুধবার রাতে আক্রান্ত ওই শ্রমিককে থানায় ডেকে পাঠিয়ে এফআইআর নেওয়া হয়। পুলিস জানিয়েছে, এটা ‘জিরো’ এফআইআর। অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির নামে অভিযোগ হয়েছে। অভিযোগের কপি মুম্বইয়ের সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে কান কাটার মানসিক প্রভাব পড়েছে ওই যুবকের উপর। তবে প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তাঁর দুই কানের গঠন ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক রাজেন্দ্রপ্রসাদ সিং।
উল্লেখ্য, মাস ছয়েক আগে মুম্বইয়ের মালাডে নির্মাণ শ্রমিকের কাজে যান নলহাটি পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বছর পঁচিশের রাহুল সিং। তাঁর অভিযোগ, বাড়ি ফেরার জন্য পারিশ্রমিক বাবদ ২০ হাজার টাকা শেঠের কাছে চাওয়ায় তিনি দিতে রাজি হননি। এই নিয়ে শেঠের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় তাঁর। পারিশ্রমিক না মেলায় মালাড থানায় শেঠের নামে অভিযোগ করেন রাহুল। এই অপরাধে শেঠের লোকজন তাঁকে মারধর করে মুখমণ্ডল ও দুই কানে এলোপাথারি ব্লেড চালায়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে স্থানীয় হাসপাতালে তাঁর দুই কান কেটে দিতে বাধ্য হন ডাক্তাররা। গত সোমবার রাহুল বাড়ি ফেরেন। ছেলের চেহারা দেখে শেঠ ও তার লোকজনদের শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন মা দীপা সিং। সকলেই এই ঘটনাকে নৃশংস, বর্বর, পৈশাচিক বলে নিন্দা করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার রাতে ওই যুবককে থানায় ডাকে পুলিস। বিস্তারিত শোনার পর তার কাছ থেকে অভিযোগ পত্র নেওয়া হয়। পুলিস জানিয়েছে, পারিশ্রমিক বাবাদ পাওনা টাকা চেয়ে বচসার দু’ দিন পর রাস্তায় ওই যুবকের উপর হামলা চালানো হয়।
এদিকে দুই কান কাটা যাওয়ায় যুবকের মুখে পরিবর্তন এসেছে। ভারসাম্যহীনতা দেখা দিয়েছে। রাহুল ঘনিষ্ট মহলে আত্মবিশ্বাসের অভাব হচ্ছে বলে জানিয়েছেন। এদিন তিনি বলেন, দুই কান কাটা যাওয়ায় সবসময় টুপি পড়ে থাকছি। নিজের চেহারা নিজের কাছেই খারাপ লাগছে।
বিধায়ক বলেন, এই ঘটনায় যুবকের মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাঁর চেহারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে রামপুরহাট মেডিক্যালের সার্জারি বিভাগের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে তাঁর দুই কানের গঠন ফিরিয়ে আনা হবে।