Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ইআরওদের আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি, চিঠি দিলেন মহারাষ্ট্রের সিইও, এসআইআর: ইসিআইনেট নিয়ে প্রশ্ন

তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সহ বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে অসন্তোষের খবর ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ঝড় উঠেছে।

ইআরওদের আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি, চিঠি দিলেন মহারাষ্ট্রের সিইও, এসআইআর: ইসিআইনেট নিয়ে প্রশ্ন
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুম্বই ও নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর সহ বিভিন্ন ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে অসন্তোষের খবর ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে ঝড় উঠেছে। তার মধ্যেই এবার ইসিআইনেট সফ্টওয়্যারে স্থানীয় আধিকারিক ‘ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার’ বা ইআরও-দের আরও ক্ষমতা প্রদানের আর্জি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক (সিইও) এস চোকালিঙ্গম। ভোটার তালিকা পরিচালনা ও নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাজকর্ম চলে কমিশনের এই সেন্ট্রালাইজড ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ইসিআইনেট-এর মাধ্যমে। সেখানে চারটি বদলের প্রস্তাব দিয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ওই চিঠি লেখেন চোকালিঙ্গম। ঘটনাচক্রে, তাঁর ওই চিঠির ঠিক আগের দিনই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতবিরোধ সংক্রান্ত বিস্ফোরক তদন্তমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। নির্বাচনি আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় নতুন নাম যুক্ত করা বা বাদ দেওয়া সংক্রান্ত প্রাথমিক দায়িত্ব ইআরও-দের হাতেই থাকার কথা। যদিও তাঁদের সেই ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে ‘ইসিআইনেট’ সফটওয়্যারের মাধ্যমে তা কেন্দ্রীভূত করার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তিন শীর্ষকর্তার মধ্যে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশিও এবিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্টে দাবি করা হয়। ফলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও আইটি ডিরেক্টর সীমা খান্নার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। সেই বিতর্ক আরও বাড়ল চোকালিঙ্গমের চিঠি ঘিরে। স্বাভাবিকভাবেই এনিয়ে সুর চড়িয়েছে কংগ্রেস সব বিরোধী দলগুলি।

Advertisement

বিষয়টি নিয়ে চাপের মুখে ইতিমধ্যেই সংশোধনমূলক বেশ কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে কমিশন। ‘ইসিআইনেট’ সংক্রান্ত অসন্তোষ ও তার কার্যকারিতা খতিয়ে দেখতে গড়া হয়েছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। এরইমধ্যে মহারাষ্ট্রের সিইও তাঁর চিঠিতে অনুরোধ করেছেন, ভোটাররা বৈধ ও সন্তোষজনক নথি পেশ করলে তাঁদের ব্যক্তিগত শুনানি থেকে যাতে মহকুমা স্তরের আধিকারিক ইআরও-রাই রেহাই দিতে পারেন, সেই সুযোগ রাখা হোক। উল্লেখ্য, কোন ১৩টি নথি দেখিয়ে ভোটাররা আর্জি জানাতে পারবেন, তা ইতিমধ্যেই জানিয়েছে কমিশন। মহারাষ্ট্রের সিইও কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে এগুলির সঙ্গে ‘অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি’-কেও যুক্ত করার অনুরোধ করেছেন। তাঁর মতে, গৃহহীন, ভবঘুরে কিংবা যৌনকর্মী সহ অন্যান্য অনেকেই কমিশন উল্লিখিত ১৩টি নথি দাখিল করতে ব্যর্থ হতে পারেন। চিঠিতে চোকালিঙ্গমের আরজি, নাম বাদ পড়া ভোটারের নথি সন্তোষজনক হলে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক বা ডিআরও-দের কাছে না পাঠিয়ে ইআরও-কেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হোক। সে ক্ষেত্রে নথি যাচাইয়ের পর ভোটার তালিকায় কোনও ভোটারের নাম যুক্ত বা বাদ দিতে পারবেন ইআরও। রিপোর্ট অনুসারে, চোকালিঙ্গম দাবি করেছেন অমিল বা ‘ডিসক্রিপেন্সি’র ক্ষেত্রে ‘শেষ এসআইআর-এর নির্যাস’ আপলোড করা ঐচ্ছিক করা হোক, যেহেতু সিস্টেমটি পূর্ববর্তী এসআইআর রোল ব্যবহার করে ইতিমধ্যেই অমিলটি শনাক্ত করে ফেলেছে। চোকালিঙ্গমের আরও দাবি, বিভিন্ন বিষয়ে ইআরও-দের যেসব প্রশ্ন রয়েছে, তা নিয়ে লিখিত নির্দেশ জারি করুক কমিশন। কারণ এক্ষেত্রে বিভিন্ন মৌখিক নির্দেশাবলি পর্যাপ্ত নয়। এবিষয়ে মহারাষ্ট্র রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অন্য এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চোকালিঙ্গমের অনুরোধগুলি গৃহীত হয়েছে। এই ইস্যুতে মঙ্গলবার সরব হয়েছে কংগ্রেস। এক্স হ্যান্ডলে হাত শিবিরের দাবি, ‘এবার মহারাষ্ট্রের সিইও এস চোকালিঙ্গম জ্ঞানেশ কুমারের ‘ভোট চুরি’র খেলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। চোকালিঙ্গম বলেছেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ইআরও-কেই দেওয়া উচিত, ইসিআইনেট সফ্টওয়্যারকে নয়।’ কংগ্রেস বলেছে, এধরনের আপত্তি বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনি আধিকারিকরা তুলছেন। জ্ঞানেশের কাছে ইস্তফা ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ