Bartaman Logo
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

মহারণের ডায়েরি

হাতে ছেলের ফটোগ্রাফ। চোখে জল। রবিবার যুবভারতীতে পুত্রশোক বুকে নিয়েই মোহন বাগানের সমর্থনে হাজির হয়েছিলেন রাজুলের বাবা-মা। মাত্র কয়েক মাস আগেই স্কুলে র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল ১৭ বছরের শৌর্য সরকার (রাজুল)।

মহারণের ডায়েরি
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ছেলের স্মৃতিতর্পণ 

Advertisement

হাতে ছেলের ফটোগ্রাফ। চোখে জল। রবিবার যুবভারতীতে পুত্রশোক বুকে নিয়েই মোহন বাগানের সমর্থনে হাজির হয়েছিলেন রাজুলের বাবা-মা। মাত্র কয়েক মাস আগেই স্কুলে র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল ১৭ বছরের শৌর্য সরকার (রাজুল)। ছোট থেকেই সে ছিল মোহন বাগানের অন্ধভক্ত। তাই ছেলের স্মৃতিতর্পণে রবিবার সবুজ-মেরুনের ব্রিগেডের হয়ে গলা ফাটাতে মাঠে হাজির হয়েছিলেন বাবা-মা।
ইস্ট বেঙ্গলের টানে
দু’সপ্তাহের ছুটিতে সুদূর আমেরিকা থেকে ভারতে এসেছিলেন বেড়াতে। কলকাতায় বন্ধুর বাড়িতে নিমন্ত্রণরক্ষা করতে আসেন বছর তিরিশের ম্যাট। গত সোমবার বন্ধুর সঙ্গেই যুবভারতীতে ইস্ট বেঙ্গল বনাম পাঞ্জাব ম্যাচ দেখেছিলেন। আর রবিবার সাক্ষী থাকলেন ডার্বির। গলা ফাটালেন মশাল বাহিনীর হয়ে। ম্যাটের বক্তব্য, ‘আমার বন্ধু ইস্ট বেঙ্গলের ভক্ত। তাই আমিও তাদের সমর্থন জানাচ্ছি। শুনলাম, দীর্ঘদিন বাদে লিগ জয়ের সুযোগ তাদের সামনে। এমন মুহূর্ত তাই হাতছাড়া করতে চাইনি।’
সম্প্রীতির বার্তা
ছোট থেকে বড়ো হয়েছেন এক পাড়াতেই। পড়াশুনাও একসঙ্গে। তবে এই বিশেষ দিনটা আসলেই পথ হয় ভিন্ন। একজনের আবেগের নাম মোহন বাগান। অন্যজনের বুকে জ্বলছে লাল-হলুদ মশাল। তবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই রবিবার যুবভারতীতে হাজির হয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের মহম্মদ আলতাব আর দেবতুন গুহ। গায়ে তাঁদের সবুজ-মেরুন ও লাল-হলুদ জার্সি। স্টেডিয়ামের দু’নম্বর গেটের সামনে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আলাদা হওয়ার আগে মোহন বাগানের অন্ধভক্ত আলতাব বলছিলেন, ‘২০২৩ সাল থেকে আমরা এভাবেই বড় ম্যাচ দেখতে আসছি। আমাদের প্রিয় দল আলাদা। তবে সবার আগে ফুটবলের ভক্ত।’ এরপরই দেবতুন বলে উঠলেন, ‘ম্যাচের ফল যাইহোক বাড়ি ফেরার পথে আজ আমরা একসঙ্গে বিরিয়ানি খাব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ