পিএসজি- ১ : আর্সেনাল- ১
(টাই-ব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয়ী পিএসজি)
সঞ্জয় সরকার, কলকাতা: পুসকাস এরিনায় কয়েক মুহূর্ত পিন ড্রপ সাইলেন্স। পিএসজি’র সমর্থকরা এতক্ষণ গলার শিরা ফুলিয়ে চিৎকারে ব্যস্ত ছিলেন। তবে টাই-ব্রেকারে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাঘালহাস শট পোস্টের উপর থেকে উড়িয়ে দিতে তাঁরাও হঠাৎ শান্ত। মাঠের মধ্যে যে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন রাইস-মার্তিনেল্লিরা। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা যে এমনই। আর প্রতিপক্ষ শিবিরের ফুটবলারদের হতাশা নির্বাক করে দিয়েছে প্যারিসের ফুটবলপ্রেমীদেরও। সম্বিৎ ফিরতে অবশ্য দেরি হয়নি তাঁদের। কোচ লুই এনরিকের জয়ধ্বনির মাধ্যমে সেলিব্রেশনে শামিল হওয়া। পরপর দু’বার ইউরোপ সেরার উদযাপন তো কোনও নিয়মের তোয়াক্কা করবে না। শনিবার ইউরোপ সেরার ফাইনালে আর্সেনালকে টাই-ব্রেকারে হারাল পিএসজি। ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে। এরপর শ্যুট-আউটে পিএসজি’র হয়ে লক্ষ্যভেদে সফল র্যামোস, দুয়ে, হাকিমি ও বেরাল্ডো। আর গানারদের হয়ে জাল কাঁপান গোয়কেরাস, রাইস ও মার্তিনেল্লি। পিএসজি’র নুনো মেন্ডিজের শট আর্সেনাল গোলরক্ষক রুখে দিলেও, এবেরেচি ও গ্যাব্রিয়েল বল বাইরে মারতেই ৪-৩ ব্যবধানে খেতাব রক্ষার লড়াইয়ে সফল এনরিকে-ব্রিগেড।
পিএসজি’র আনন্দের দিনেই চোখে জল আর্সেন ওয়েঙ্গারের। ভেবেছিলেন, তিনি পারেননি তো কী হয়েছে? আর্তেতাই হয়ে উঠবেন আর্সেনালের স্বপ্নের সওদাগর। প্রিমিয়ার লিগ জয়ের পর তাঁর হাত ধরেই আসবে প্রথম উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। কিন্তু বিধি বাম। মস্তিষ্কের লড়াইয়ে আর্তেতাকে পিছনে ফেললেন এনরিকে। যে ক্লাব জলের মতো টাকা খরচ করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে চাইত, তারাই এবার ধরে রাখল খেতাব। সৌজন্যে লুই এনরিকে। যোগ্য নাবিকের মতোই পিএসজি’কে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন স্প্যানিশ কোচ।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে শুরুর দিকে আর্সেনালকেই ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছিল। পঞ্চম মিনিটেই ইংল্যান্ডের ক্লাবটিকে এগিয়ে দেন হাভার্ট। পিএসজি’র মার্কুইনহোসের ক্লিয়ারেন্স ট্রোসার্ডের গায়ে লেগে চলে আসে হাভার্টের কাছে। তারপর দুরন্ত গতিতে বিপক্ষ বক্সে ঢুকে পড়ে বাঁ পায়ের গোলার মতো শটে জাল কাঁপান তিনি (১-০)। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে ম্যাচে লড়াইয়ে ফেরে পিএসজি। ৪০ মিনিটে রুইজের শট রুখে দেন আর্সেনালের গোলরক্ষক রায়া।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ গড়ার জন্য বারবার উইং প্লে’তেই জোর দেয় ফরাসি ক্লাবটি। ৬২ মিনিটে বক্সের ভিতর খাভিচাকে পিছন থেকে ফাউল করেন মুসকুয়েরা। রেফারি সঙ্গত কারণেই পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে জাল কাঁপাতে ভুল হয়নি ডেম্বেলের (১-১)। ৭৭ মিনিটে পিএসজি’র খাভিচার শট আর্সেনাল ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে কিঞ্চিৎ দিক পরিবর্তন করে পোস্টে ধাক্কা খায়। অতিরিক্ত সময়ে খেলার গতি প্রকিৃততে খুব একটা পরিবর্তন ঘটেনি। তবে ১০২ মিনিটে আর্সেনালের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন রেফারি।