Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নল নয়, চিলাপাতার জঙ্গলে গড় মহারাজা নরনারায়ণের, মিলল স্বীকৃতি, করা হবে সংস্কার ও সংরক্ষণ

নলরাজার গড় নয়, চিলাপাতার জঙ্গলে ঐতিহাসিক যে গড় আছে সেটি আসলে কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের গড়।

নল নয়, চিলাপাতার জঙ্গলে গড় মহারাজা নরনারায়ণের, মিলল স্বীকৃতি, করা হবে সংস্কার ও সংরক্ষণ
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: নলরাজার গড় নয়, চিলাপাতার জঙ্গলে ঐতিহাসিক যে গড় আছে সেটি আসলে কোচবিহারের মহারাজা নরনারায়ণের গড়। অপভ্রংশে ওই গড়কে এতদিন সকলে নলরাজার গড় বলে আসছিলেন। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সংরক্ষণ ও সংস্কার কাজ শুরু করার আগে চিলাপাতার জঙ্গলে ভগ্নস্তূপে পরিণত হওয়া গড়কে রাজা নরনারায়ণের গড় বলে জেলা প্রশাসন স্বীকৃতি দিল। 

Advertisement

সোমবার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় এক বৈঠকে ইতিহাসবিদ, গবেষক ও পশ্চিমবঙ্গ রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট কালচারাল বোর্ড এই স্বীকৃতি দিল। সাধারণ মানুষকে ঐতিহাসিক এই তথ্য জানানোর জন্য জেলা প্রশাসন খুব শীঘ্রই লিফলেট ছড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল হেরিটেজ কমিশন চিলাপাতার সংরক্ষিত জঙ্গলে ওই গড়ের সংরক্ষণ ও সংস্কার করবে। সেই কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর গড়ে মহারাজা নরনারায়ণ গড় বা রাজার ভাই তথা সেনাপতি বীর চিলা রায়ের নামের বোর্ড ঝোলানো হবে। 
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক আর বিমলা, বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাসোয়ান, পশ্চিমবঙ্গ রাজবংশী ডেভেলপমেন্ট কালচারাল বোর্ডের চেয়ারম্যান বংশীবদন বর্মন, বোর্ডের কার্যকরী কমিটির সদস্য পীযূষকান্তি রায়, ইতিহাসবিদ আনন্দগোপাল ঘোষ সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। 
বৈঠক শেষে বিধায়ক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে  চিলাপাতা জঙ্গলে ঐতিহাসিক ওই গড়ের সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজ করবে ওয়েস্ট বেঙ্গল হেরিটেজ কমিশন। যেহেতু সংরক্ষিত জঙ্গল সেই জন্য ওই গড়ে কোনও নির্মাণ কাজ করা হবে না। শুধুমাত্র গড়ের সংরক্ষণ, সংস্কারের কাজই করা হবে। 
বংশীবদনবাবু বলেন, এর আগে সংবাদপত্রে আমরা দেখেছি চিলাপাতার ওই গড়কে কোনও কোনও মহল থেকে নলরাজার গড় বলা হচ্ছিল। কিন্তু এটি নলরাজার গড় নয়। ইতিহাসে চিলাপাতার জঙ্গলে নলরাজার গড় বলে কোনও গড় নেই। এটি আসলে কোচবিহার মহারাজা নরনারায়ণের গড়। ভুটানের রাজার সঙ্গে যুদ্ধ করার সময় রাজা নরনারায়ণ তাঁর ভাই সেনাপতি বীর চিলা রায়কে চিলাপাতার জঙ্গলে এই সেনানিবাস বা দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দেন। এটি আসলে কোচবিহারের রাজা নরনারায়ণের গড়। মুখ্যমন্ত্রী সেই গড়ের সংরক্ষণ ও সংস্কারের নির্দেশ দেওয়ায় আমরা খুশি। 
চিলাপাতার জঙ্গলে ঐতিহাসিক ওই গড় বর্তমানে জঙ্গলে ঢাকা পড়েছে। ভগ্নস্তূপে পরিণত হয়েছে। মাটিতে সম্পূর্ণ বসে গিয়েছে গড়টি। গড়ে সাপের বাসা তৈরি হয়েছে। জেলার পর্যটনের বিকাশে গড়টির সংরক্ষণ ও সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাব দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দেন বিধায়ক। তারপরেই মুখ্যমন্ত্রী হেরিটেজ কমিশনকে নির্দেশ দেন গড়টির সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের। 
ইতিহাসবিদ আনন্দগোপাল ঘোষ বলেন, একসময় চিলাপাতার জঙ্গলে নলখাগড়ার গাছ ছিল। সেই অপভ্রংশ থেকে কোনও কোনও মহল ওই গড়কে নলরাজার গড় বলে। আবার রাজা নরনারায়ণের অপভ্রংশ থেকেও কেউ কেউ এই গড়কে নলরাজার গড় বলে। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে এই গড় মহারাজা নরনারায়ণের গড়।  নিজস্ব চিত্র। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ