Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মডেল ট্রামে চেপে তারকেশ্বরে মহাদেব, জমজমাট শ্রাবণী মেলা, পুলিসের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা

শ্রাবণ মাসের সোমবার তারকেশ্বরে লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম। তার মধ্যে নজর কাড়ল মডেল ট্রাম। তাতে চেপে এলেন মহাদেব।

মডেল ট্রামে চেপে তারকেশ্বরে মহাদেব, জমজমাট শ্রাবণী মেলা, পুলিসের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা তারকেশ্বর: শ্রাবণ মাসের সোমবার তারকেশ্বরে লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম। তার মধ্যে নজর কাড়ল মডেল ট্রাম। তাতে চেপে এলেন মহাদেব।

Advertisement

অন্যান্যবারের মতো এ বছরও শিবের মাথায় জল ঢালতে হরেক রকম মডেল নিয়ে এসেছিলেন পুণ্যার্থীরা। সেরকমই একটি দল গঙ্গা জল সহ মডেল ট্রাম  নিয়ে তারকেশ্বরে নিয়ে এলেন মহাদেবকে। সবমিলিয়ে মেলাজুড়ে সাজ সাজ রব। তবে অনেকের বক্তব্য, তারকেশ্বরে প্রবেশের পর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পুণ্যার্থীদের। তাঁদের ঘুরপথে যেতে হচ্ছে। এই পথে হেঁটে গিয়ে জল ঢালার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন অনেকে। কয়েক বছর আগে তারকেশ্বর মন্দিরে জল ঢালার জন্য লাইন পড়ত কয়েক কিলোমিটার লম্বা। এখন সেই নিয়মের পরিবর্তন হয়েছে। ১৩টি পয়েন্টে ১৯টি ড্রপ গেট করা হয়েছে। গেট খোলার পর পুণ্যার্থীরা মন্দিরের দিকে দৌড় দিচ্ছেন। পুলিস বারবার ধীরে চলার বার্তা দিলেও কেউ কর্ণপাত করছেন না। ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা। অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন তীর্থযাত্রীদের জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু অত্যধিক কড়াকড়ির ফলে স্থানীয়দের কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়। ২৮ জুলাই তারকেশ্বর নতুন গ্রামের বাসিন্দা দিপালী ঘোষের (৫০) মৃত্যু হয়। তাঁর ভাই সোমনাথ ঘোষ জানান, ভোর চারটের সময় আমার দিদি মারা যান। মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনওরকম সহযোগিতা পাইনি। পুণ্যার্থীদের ভিড় ঠেলে ট্রলিতে চাপিয়ে শ্মশানে কাঠ নিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি ছিল না। পুলিসকে বলার পরও কোনওরকম সহযোগিতা পাইনি। শেষে বিকেল চারটে নাগাদ মৃতদেহ কোনওক্রমে আরামবাগ নিয়ে গিয়ে দাহ করা সম্ভব হয়। পুণ্যার্থীদের জন্য অবশ্যই সুব্যবস্থা থাকুক। কিন্তু স্থানীয়দের দিকেও খেয়াল রাখুক প্রশাসন। পুলিসের কাজকর্ম নিয়ে ক্ষোভ জানান তীর্থযাত্রী নিবাস মালিক সঙ্ঘের সম্পাদক শান্ত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ছোট থেকে আমরা তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলা দেখছি। এই ধরনের অব্যবস্থা আগে কখনও দেখিনি। তীর্থযাত্রীদের তেঁতুলতলা দিয়ে প্রবেশ করানো হচ্ছে। কোনও লাইন নেই। একসঙ্গে কয়েক হাজার মানুষ দৌড়ে আসছেন। জল ঢালার পর তাঁদের স্টেশনের দিকের রাস্তায় পাঠানো হচ্ছে। এদিকে মন্দিরপাড়া এলাকা সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকছে। যেহেতু খাবার হোটেলগুলি এখানে আছে তাই তীর্থযাত্রীরা পর্যাপ্ত খাওয়ার পাচ্ছেন না। স্টেশন এলাকায় এ বছর হোটেল করতে দেয়নি রেল। স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদারদের পুরসভা থেকে পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। তা গুরুত্ব দিচ্ছে না পুলিস। নিজের বাড়ি-দোকান যাতায়াত প্রায় বন্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মানুষ বলেই মনে করছে না প্রশাসন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবেন। তারকেশ্বর পুরসভার পুরপ্রধান উত্তম কুণ্ডু জানান, পুরসভা থেকে আলো, জল, মন্দির পরিষ্কার করা সহ সবরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোন রাস্তা দিয়ে কিভাবে যাতায়াত করা হবে তা পুলিস ঠিক করেছে। মৃতদেহ ১২ ঘণ্টা বাড়ি থেকে বের করতে পারেনি। এই ঘটনা আমার জানা ছিল না। জানলে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ