Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরে মহাভোগের আয়োজন

গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরে মহাভোগের আয়োজন
  • ১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: ন’দিনের জন্য মাসির বাড়ি এসেছেন জগন্নাথদেব। আগামী শনিবার ফিরে যাবেন নিজের বাড়ি। মাসির বাড়িতে বছরে এই ক’টা দিন আসেন। তাই বিশেষ সেবা যত্নের ব্যবস্থা থাকে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার জন্য। প্রতিদিনই বিশেষ ভোগরাগের ব্যবস্থা চলছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দিনে পাঁচবার ভোগরাগের পাশাপাশি প্রতিদিন বিভিন্নভাবে নিত্য নতুন শৃঙ্গার করা হয়। আর সবকিছুই নিষ্ঠার সঙ্গে করে চলেছেন জগন্নাথদেবের মাসির বাড়ি নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরের বৈষ্ণবরা। গত ২৭ জুন শুক্রবার নবদ্বীপ প্রাচীন মায়াপুর বালক সাধু আশ্রমের জগন্নাথ মন্দির থেকে রথযাত্রা বের হয়। বৈষ্ণব তীর্থ নবদ্বীপের রাজপথ পরিক্রমা করে সন্ধ্যার পরে রথে চড়ে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা আসেন গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দিরে। চিরাচরিত প্রথা মেনে সেখানেই বিশেষ ভোগের আয়োজন করা হয়। বিকেলে মন্দির প্রাঙ্গণে ভাগবত পাঠ কীর্তনের আয়োজন করা হয়। অসংখ্য ভক্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় করেন নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ জন্মস্থান মন্দিরে। দেশ-বিদেশের পুণ্যার্থীরা অংশগ্রহণ করেন রথ উৎসবে।

Advertisement

নবদ্বীপ ধামের শ্রীমন্মহাপ্রভু জন্মস্থান মন্দিরের এক সেবক শম্ভু দাস বলেন, প্রভু জগন্নাথ পরিবার নিয়ে আমাদের আশ্রমে এসেছেন। তিনি আমাদের পরমারাদ্ধ ভগবান। সে কারণে তাঁর যাতে সেবার ত্রুটি না হয়, আমরা সেদিকে সবসময় নজর রাখি। প্রতিদিন যেমন ফল ফলাদি থেকে শুরু করে অন্ন, পুষ্পান্ন, পরমান্ন বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি এবং মালপোয়া, খাজা, গজা সহ আরও বিভিন্ন ধরনের ভোগ নিবেদন করা হয়ে থাকে।

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু জন্মস্থান মন্দিরের আর এক সেবক বিকাশ দাস বলেন, প্রভু দাদা বলরাম ও বোন সুভদ্রাকে নিয়ে এসেছেন আমাদের আশ্রমে। তাঁদের যাতে সেবার কোনও ত্রুটি না হয়, সেজন্য  সারাদিনে প্রভুকে যত নিত্য নতুন ভোগ দেওয়া যায়, তারজন্যই আমরা তৎপর থাকি।

নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু জন্মস্থান মন্দিরের অধ্যক্ষ অদ্বৈত দাস বাবাজি মহারাজ বলেন, ৪২ বছর ধরে এই রথকে মন্দিরে আসতে দেখছি। প্রভু ও তাঁর পরিবারের সেবায় আমরা কোনও ত্রুটি রাখি না। দিনে পাঁচবার আলাদা আলাদা ভোগ দেওয়া হয়। ভোগের পর সেই প্রসাদ প্রতিদিনই ভক্তদের মধ্যে বিলি করা হয়। ৫ জুলাই উল্টো রথের দিন জগন্নাথদেব সপরিবারে আবার ফিরে যান বালক সাধুর আশ্রমে। মাসির বাড়ি যাওয়ার অপেক্ষা শুরু হয় আরও একটি বছরের জন্য।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ