বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: ৭২তম বর্ষে রামপুরহাটের সানঘাটাপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির মণ্ডপে এবার মহাভারতের দৃশ্য ফুটে উঠবে। তাদের থিম ‘মহাভারত’। তাদের স্লোগান ’৭২-এর নতুন গানে, সানঘাটা সবার প্রাণে’। তাদের থিম শহরের সব পুজোকে টক্কর দেবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের।
শরৎকালে দুর্গাপুজো হওয়ার পিছনে রয়েছেন স্বয়ং রামচন্দ্র। রাবণ বধের আগে দেবীদুর্গার বর প্রার্থনা করে দুর্গাপুজো করেছিলেন রাম। কিন্তু, মহাভারতেও উপেক্ষিত নন দেবী দুর্গা। যুধিষ্ঠির পাশা খেলায় হেরে যাওয়ার পর শর্তমতোই রাজ্য, সম্পদ সব হারিয়েছিলেন। সঙ্গে যোগ হয়েছিল ১২বছরের বনবাস এবং আরও এক বছরের অজ্ঞাতবাস। বনবাসের সময় শেষ হলে পঞ্চপাণ্ডব অজ্ঞাতবাসের জন্য নির্বাচন করেন বিরাটনগরকে। কিন্তু, সেই রাজ্যে যাওয়ার আগে মুনিরা যুধিষ্ঠিরকে উপদেশ দেন, দেবী দুর্গার কাছে অজ্ঞাতবাসের সাফল্য কামনা করার জন্য। সেইমতো দেবীর আরাধনা করেন জ্যৈষ্ঠ পাণ্ডব। মহিষমর্দিনী রূপের উপাসনা করেছিলেন যুধিষ্ঠির। তাঁর স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে তাঁকে রাজ্য ফিরে পাওয়ার বর দিয়েছিলেন দেবী। মহাভারতে দ্বিতীয়বার দেবী দুর্গার উপাসনা করেন তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুন। কৌরব পক্ষের বিপুল সেনাবাহিনীর সামনে দাঁড়িয়ে নাকি সাময়িকভাবে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন মহাপরাক্রমশালী অর্জুনও। সেই সময়ই কৃষ্ণের উপদেশে দেবী দুর্গার উদ্দেশে স্তোত্রপাঠ শুরু করেন তিনি। তুষ্ট দেবী তাঁকে শত্রুজয়ের বর দেন। তেমনই নানা দৃশ্য ফুটে উঠবে মণ্ডপে।
৪৫ ফুট উচ্চতার মণ্ডপ তৈরি করছেন তারাপীঠের শিবাশিস মণ্ডল। মহাভারতের বিভিন্ন খণ্ডচিত্র মণ্ডপে ফুটিয়ে তোলার দায়িত্বে রয়েছেন রামপুরহাটের শিল্পী আকাশ কাহার। মহাভারতের কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের দৃশ্য লাইট অ্যান্ড সাউন্ডের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। উদ্যোক্তাদের দাবি, যা দর্শকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পুজো কমিটির সম্পাদক সায়ন হাজরা বলেন, ‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত’। গীতার এই সারাংশই মণ্ডপের পরতে পরতে দেখা মিলবে। মণ্ডপের সঙ্গে মানানসই সাবেকি মূর্তি করছেন মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার ঘূর্ণি গ্রামের বাঁকারায় সূত্রধর। রামপুরহাটের চন্দন রজকের চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা মণ্ডপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। এবার বাজেট প্রায় ২০ লক্ষ টাকা।
যেহেতু স্বর্গের মাতৃশক্তি দেবী দুর্গা মর্ত্যে আসছেন, তাই মর্ত্যের মাতৃশক্তি মহিলাদের দিয়েই পঞ্চমীর দিন পুজোর উদ্বোধন হবে। তার আগে ১সেপ্টেম্বর জাঁকজমকভাবে থিম সং প্রকাশ করা হবে। পুজোর চারদিন নানা প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পুজোর কমিটির সভাপতি সুনীল কেশরী ও উপদেষ্টা প্রাক্তন ব্যাঙ্ককর্তা আশিস দত্ত বলেন, সপ্তমীর দিন এলাকার সকলে মিলে শোভাযাত্রা করে ঘট ভরে নিয়ে আসা হবে। প্রতি বছরের মতো নবমীতে এলাকায় থাকবে অরন্ধন। কমিটির উদ্যোগে প্রায় চার হাজার মানুষকে পাত পেড়ে ভোগ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পুজো কমিটির সম্পাদক সায়নবাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্থিক অনুদান ও পুজো করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ছাড় আয়োজনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়ে উঠেছে। এবছর আমাদের আয়োজন সকলের নজর কাড়বে। শহরের সব পুজো এসে মিশবে সানঘাটা পাড়ায়।