আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
আমাদের এই পৃথিবী সত্যিই এক বিচিত্র জায়গা। এখানে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যার ব্যাখ্যা মেলা কঠিন। তেমনই কিছু জায়গার সঙ্গে তোমাদের পরিচয় করাচ্ছেন কমলিনী চক্রবর্তী।
আজ তোমাদের যে আশ্চর্য জায়গাটার কথা বলব, সেটা আমাদের দেশেই রয়েছে। এখানে পাহাড়গুলো চুম্বকের মতো টানতে থাকে গাড়ি। হয়তো তুমি গাড়ি থামিয়ে দাঁড়িয়ে আছ, বা গাড়িটা পার্ক করে নেমেছ ছবি তুলবে বলে, ওমা! খানিক বাদে পিছনে ঘুরে দেখবে গাড়ি নেই। ভয়ের চটে হয়তো ভেবে বসবে ভূত নাকি। না, তেমন কিছুই নয়। এখানে পাহাড়গুলোই টেনে নিয়ে যায় গাড়ি। এবার নিশ্চয়ই প্রচণ্ড অবাক লাগছে তোমাদের। জানতে চাইছ কোথায় এমন পাহাড় যা আস্ত গাড়ি টেনে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে রাখে? সেই পাহাড় আছে লাদাখের লে শহর থেকে খানিক দূরে। এখানে পাহাড় নানা রঙে রঙিন। বাদামি, খয়েরি থেকে শুরু করে লালচে, মেরুন পর্যন্ত সেই রঙের শোভা। মাথার উপর নীল আকাশ আর চারপাশে রঙিন পাহাড় দেখে হঠাৎ দাঁড়িয়ে ছবি তোলার সাধ জাগা এমন আশ্চর্য কোনো ঘটনাও নয়। আর যেই না গাড়ি দাঁড় করিয়ে নেমেছ, অমনি গাড়িও গড়াতে লাগবে তোমায় ফেলে! তাজ্জব বনে যাবে তুমি। আর সবচেয়ে আশ্চর্য হল গাড়ি কিন্তু ঢাল বেয়ে নামে না, বরং উপর দিকে উঠতে থাকে নিজে নিজেই। একেবারে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে চলা যাকে বলে।
ভাবছ তো এমন ঘটনা ঘটবে কেমন করে? সেই কবেই নিউটন সাহেব গাছ থেকে আপেল পড়া দেখে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা গ্র্যাভিটেশনাল পুল আবিষ্কার করেছিলেন, সেই গবেষণা কি মিথ্যে হয়ে যাবে তবে? ম্যাগনেটিক হিল বা চুম্বক যুক্ত পাহাড়। তার টানেই কি এই উলটপুরাণ? এই নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে বিস্তর গবেষণা চলেছে বহু যুগ। প্রথম দিকে এই ঘটনাকে ভূতুড়ে বলে ব্যাখ্যা করা হত। কিন্তু ক্রমশ ভূ-তাত্ত্বিক পরিমাপ ব্যবস্থার যত উন্নতি হয়েছে, ততই বোঝা গিয়েছে এই কাণ্ড আসলে অদ্ভুত নয়, বরং যুক্তিসঙ্গত। তাহলে সেই যুক্তটা কী? আসলে পাহাড় ঘেরা রাস্তার চড়াই-উতরাই যেমন থাকে, এক্ষেত্রেও তেমনই রয়েছে। খানিকটা উঁচু হলেও বাকিটা সামান্য ঢালু। খালি চোখে সেই ঢাল ধরা পড়ে না। কিন্তু যখনই গাড়ি বা অন্য কোনও যান সেই পথে দাঁড়ায় তখন তা ওই ঢাল বেয়ে খানিকটা নেমে যায়। গবেষণা বলে, মোটামুটি প্রতি ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার গতিতে গাড়ি গড়িয়ে যায় এই পথে। তাহলে আর দেরি কেন? এবার এই ম্যাগনেটিক হিলস দেখতে লাদাখ যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করে দাও।