Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আগাছায় ঢেকেছে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ম্যাজিস্ট্রেট অফিস, জন্মদিবসে আক্ষেপ বারাসতবাসীর, সংস্কারের দাবি

জেলা নগর ও দায়রা আদালতের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ইংরেজ আমলের সেই ভবন।

আগাছায় ঢেকেছে বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত ম্যাজিস্ট্রেট অফিস, জন্মদিবসে আক্ষেপ বারাসতবাসীর, সংস্কারের দাবি
  • ২৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ব্রিটিশ আমলের ইতিহাস বুকে আগলে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত বারাসতের পুরনো ম্যাজিস্ট্রেট অফিস। জেলা নগর ও দায়রা আদালতের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছে ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ইংরেজ আমলের সেই ভবন। অনাদর ও উদাসীনতার ছাপ সর্বত্র। গোটা বিল্ডিং ঢাকা পড়েছে আগাছায়। দেওয়াল ঘেঁষে হয়েছে পার্কিং ও সুলভ শৌচালয়। আজ, ২৬ জুন সারা রাজ্যে পালিত হবে ‘বন্দেমাতরম’-এর স্রষ্টা সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৭তম জন্মবার্ষিকী। উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে তাঁর জন্মস্থানে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জেলা প্রশাসন। এই আবহে বারাসতের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, জেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এহেন একটি ঐতিহাসিক ভবনের কেন এই বেহাল দশা? 

Advertisement

বারাসতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন সাহিত্যসম্রাট। পরবর্তীকালে লাল রংয়ের সেই বাড়ির নাম দেওয়া হয় ‘বঙ্কিম ভিলা’। ১৮৭৪ সালের ৪মে তিনি এখানকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগ দেন। সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি বদলি হয়ে যান। ১৮৮২ সালে ফের তিনি ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বারাসতে কাজ করেন। এই বিল্ডিংয়েই বঙ্কিমচন্দ্র বসতেন। শুনতেন মানুষের অভাব-অভিযোগ। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দোতলা ভবনের উপরের তলায় বসতেন তিনি। নীচে তাঁর কর্মীরা কাজ করতেন। 
বারাসতে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীনই তিনি ‘বঙ্গদর্শন’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বিভিন্ন কাজও এই অফিস থেকেই চলত। এসব কারণে স্বাভাবিকভাবেই বহু ইতিহাসের সাক্ষী বারাসতের এই লালবাড়ি। বাড়িটি পরবর্তী সময়ে বঙ্কিম সংগ্রহশালা হিসেবে গড়ে তোলার কথা হলেও বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এখন কড়ি-বর্গার ছাদ, সিঁড়ি সবই জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কিন্তু আজও বঙ্কিমচন্দ্রের নানা স্মৃতি রয়ে গিয়েছে চার দেওয়ালের মাঝে। স্থানীয় শিক্ষক প্রেমেন্দ্র সাহা বলেন, ‘দু’বার বারাসতের ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। তাঁর স্মৃতিবিজড়িত ভবনের এই দশা পীড়া দেয়। বই পড়ে জেনেছি, এখানে উনি অনেক কাজ করেছেন। তাঁর বেশ কিছু পদক্ষেপ নাড়া দিয়েছিল তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকদেরও। আমরা ২০০ বছরের বেশি পুরনো এই ভবনের সংস্কার চাই। ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।’ বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘এই বিখ্যাত বাড়িটি ঐতিহ্যবাহী ভবন হিসেবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আশা করা যায়, ওই কাজ শেষ হলে পর্যটক, শিক্ষার্থী, গবেষক সহ সবার জন্যই একটি দ্রষ্টব্য হয়ে উঠবে এই ভবন। সেই সঙ্গে এটি ঐতিহ্যবাহী ভবন হিসেবে ঘোষণা করা হলে বাঙালির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি উল্লেখযোগ্য নমুনা হবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ