আগ্নেয়গিরির গহ্বরে অবস্থিত তিনটি হ্রদ। বছরের বিভিন্ন সময় বদলে যায় এই হ্রদগুলির জলের রং। ইন্দোনেশিয়ার বিস্ময় এই তিন হ্রদ সম্বন্ধে জানালেন শান্তনু দত্ত।
আগ্নেয়গিরির গহ্বরে অবস্থিত তিনটি হ্রদ। বছরের বিভিন্ন সময় বদলে যায় এই হ্রদগুলির জলের রং। ইন্দোনেশিয়ার বিস্ময় এই তিন হ্রদ সম্বন্ধে জানালেন শান্তনু দত্ত।
ছোট্ট বন্ধুরা, ভাব তো, পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে পাশাপাশি তিনটি হ্রদের হদিশ পেলে তোমরা। কিন্তু সেই হ্রদগুলির জলের রং কিন্তু এক নয়! একটি নীল, একটি সবুজ, আরেকটি সোনালি। অবাক হবে তো? আরও অবাক করা বিষয় হল, কয়েক মাস পর সেই জায়গায় গেলে দেখবে, জলের রং বদলে গিয়েছে। এ কিন্তু কোনো রূপকথা নয়, সত্যিই পৃথিবীতে এমন এক আশ্চর্য জায়গা রয়েছে। নাম কেলিমুটু। ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে রয়েছে এই কেলিমুটু পাহাড়। তার তিনটি রহস্যময় হ্রদ পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত। পাহাড়ের চূড়ায় আগ্নেয়গিরির গহ্বর বা ক্রেটারের মধ্যে রয়েছে হ্রদগুলি। অনেকেই এগুলিকে ‘ম্যাজিক্যাল লেক’ অর্থাৎ জাদু হ্রদ বলেন। বিভিন্ন সময়ে এর রং পরিবর্তিত হয়। কখনো হ্রদের জল উজ্জ্বল ফিরোজা নীল, আবার কখনো গাঢ় সবুজ, কোনো কোনো সময় আবার বাদামি বা সোনালি। আশ্চর্যের বিষয় হল তিনটি হ্রদ পাশাপাশি অবস্থিত হলেও সবগুলির রং একসঙ্গে পরিবর্তন হয় না। ফলে একই সময়ে তিনটি হ্রদে তিন ধরনের রং দেখা যেতে পারে।
কেন পরিবর্তন হয় রঙের? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আগ্নেয়গিরির কোলে থাকা এই হ্রদগুলির জলে বিভিন্ন খনিজ পদার্থ রয়েছে। ফলে সর্বদা এর মধ্যে চলছে রাসায়নিক বিক্রিয়া। এই কারণেই নানা সময়ে নানা রঙের দেখা মেলে এই হ্রদগুলিতে। তবে এখনও পর্যন্ত এই হ্রদগুলির উপর পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি। এ কারণে বিজ্ঞানীরা রং পরিবর্তনের সঠিক কোনো কারণ খুঁজে পাননি। পাশাপাশি জানা যায়নি, কখন কোন হ্রদের রং কী হবে। এই অনিশ্চয়তাই কেলিমুটুর রহস্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে প্রচলিত নানা কাহিনি। অনেকে বলেন, হ্রদগুলির রঙের পরিবর্তন ভবিষ্যতের কোনো ঘটনার
পূর্বাভাস দেয়।
ইন্দোনেশিয়ার এই কেলিমুটুতে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত, দুটোই অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে সূর্যোদয়ের সময় পাহাড়ের চূড়া থেকে চারপাশের দৃশ্য অপূর্ব লাগে। আবার সূর্যাস্তের সময় আকাশের রং এবং হ্রদগুলির সৌন্দর্য এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে। তবে সূর্যাস্তের সময় সাধারণত পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে। কেলিমুটু পাহাড়ে পর্যটকদের ভিড় তুলনামূলকভাবে কম। ইন্দোনেশিয়ার আরেক বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি ব্রোমোর মতো এখানে অতিরিক্ত ভিড় হয় না। ফলে পর্যটকরা অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে এবং শান্ত পরিবেশে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। কেবল হ্রদের রং নয়, এখানকার বন্যপ্রাণীও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণের কারণ। বিশেষ করে এখানে সহজেই দেখা মেলে নানা প্রজাতির বাঁদরের।
রহস্য, বিজ্ঞান, লোককাহিনি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য সমন্বয় কেলিমুটু। পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত তিনটি রং বদলানো হ্রদ পৃথিবীর খুব কম জায়গাতেই দেখা যায়। তাই কেলিমুটু শুধু ইন্দোনেশিয়ার নয়, সমগ্র বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়কর প্রাকৃতিক আকর্ষণ হিসাবে পরিচিত। প্রকৃতির রহস্যময় রূপকে কাছ থেকে দেখতে চাইলে কেলিমুটু নিঃসন্দেহে অসাধারণ গন্তব্য।