নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশিরভাগই স্কুলশিক্ষক। তাঁদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিপুল সংখ্যক শিক্ষক তাঁদের ভাগ্য যাচাইয়ের পরীক্ষা দিয়েছেন। এসএসসির ফল প্রকাশিত হলে তাঁরা বুঝতে পারবেন, তাঁদের চাকরি থাকছে কি না। এর ফলে, স্কুলের পরীক্ষা এবং পঠনপাঠন কার্যত শিকেয় উঠতে চলেছে। এ নিয়ে রীতিমতো শঙ্কিত প্রধান শিক্ষক থেকে সহশিক্ষকরা।
১ থেকে ১০ ডিসেম্বর নবম শ্রেণি পর্যন্ত তৃতীয় সামেটিভ মূল্যায়ন রয়েছে। এটিই কার্যত বার্ষিক পরীক্ষা। তার আগে, ৩ থেকে ১৩ নভেম্বরের মধ্যে হবে মাধ্যমিকের সিলেকশন টেস্ট। প্রশ্নপত্র তৈরি করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকদেরই। মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এ বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। এদিকে, বেশকিছু স্কুল এমনও রয়েছে, যেখান থেকে সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকেই তুলে নেওয়া হয়েছে। ভবানীপুর গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষিকা পর্ণা ঘোষ বলেন, আমাদের আটজন শিক্ষিকাকেই বিএলও ডিউটি দেওয়া হয়েছে। কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা, এমনকি ক্যান্সার আক্রান্ত পরিজনদের কথা বলা সত্ত্বেও গ্রাহ্য করা হয়নি। এই গুরুত্বপূর্ণ দয়িত্বের সঙ্গে পড়ানো, প্রশ্নপত্র তৈরি, পরীক্ষায় ডিউটি দেওয়া, উত্তরপত্র মূল্যায়নের পরে ফল প্রকাশ করা—হিমশিম খাচ্ছেন সকলে।’ কলকাতারই একটি স্কুলের একমাত্র বিষয়ভিত্তিক শিক্ষিকা এণাক্ষী ভট্টাচার্যও বিএলও ডিউটি পেয়েছেন। ফলে তাঁর স্কুলের পরিস্থিতি সহজেই অনুমেয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঝাঁপবেড়িয়া হাইস্কুলের আটজন শিক্ষক আবার চাকরিহারাদের তালিকায় থাকার ফলে পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের নিজেদের ভাগ্যই সুতোর উপরে ঝুলছে। ফলে তাঁরা কীভাবে পরীক্ষার দায়িত্ব সামলাবেন সেই প্রশ্ন উঠছে। শিক্ষক সংগঠন এসটিইএ-র নেতা তথা শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী বিএলও ডিইটি প্রতিরোধ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘শিক্ষকদের ব্যাপকভাবে বিএলও ডিউটি দেওয়া শুরু হতেই সিইও-র দপ্তরে স্মারকলিপি দিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। এমনিতেই বহু স্কুলে শিক্ষকের অভাব রয়েছে। কোথাও একেবারেই নেই। এর পাশাপশি বহু সংখ্যক শিক্ষকের চাকরিই এসএসসি পরীক্ষার ফলের উপরে ঝুলে রয়েছে। তার উপরে এভাবে বিএলও ডিউটি দেওয়ায় পঠনপাঠন এবং পরীক্ষাব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়তে চলেছে অসংখ্য স্কুলে।’ এসএলএসটি ২০২৫ সালের নতুন প্রার্থীরা এদিন বিকাশ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, আপডেটেড ভেকেন্সি দিলে শূন্যপদের সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে। সেটাই প্রকাশ করুক সরকার। না-হলে ২০১৬ সালের চাকরিহারাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নতুনরা পিছিয়ে পড়বেন।