নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিক্ষকদের প্ররোচনায় স্কুলের মধ্যেই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকে খুন করা হয়েছে! আর টাকা দিয়ে সেই মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছেন খোদ স্থানীয় বিধায়ক। এমনই অভিযোগে শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মৃত ছাত্রের মা। ভদ্রেশ্বের থানায় চাঁপদানি এলাকার ঘটনা। মামলার বয়ানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিদিনের মতো স্কুলে গিয়েছিল চাঁপদানি আর্য বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্র অভিনব জালান। দুপুর ১টায় স্কুলেরই তিন ছাত্র এসে জানায়, স্কুলের মধ্যেই বিবেক সাউ নামে এক ছাত্র অন্য কয়েকজন পড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়ে অভিনবকে বেধড়ক পিটিয়েছে। শিক্ষকদের প্ররোচনাতেই এই কাণ্ড! এমনকী, তার জেরে মৃত্যুও হয়েছে অভিনবর।
ঘটনার পরই অভিনবকে স্থানীয় ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিনবর বাবা-মায়ের দাবি, হাসপাতালে অভিনবর দেহে একাধিক চোট, আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান তাঁরা। তার পোশাক রক্তে ভেসে যাচ্ছিল। এই ঘটনার পরই, প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবিতে স্কুলের সামনে ধর্না শুরু করেন অভিনবর পরিবার এবং অন্য পড়ুয়াদের বাড়ির লোকজন।
অভিযোগ, তখন সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় বিধায়ক। তিনি ও তাঁর লোকজন জোরপূর্বক ওই ধর্না হঠিয়ে দেন। এমনকী, পুলিসই তড়িঘড়ি অভিনবর দেহ সৎকার করে দেয়। এরপর রুজু করা হয় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা। পরিবারের দাবি, এই ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিস তাঁদের ফিরিয়ে দেয়। পরে অতিরিক্ত মুখ্য দায়রা বিচারকের হস্তক্ষেপে অভিযোগ দায়ের করতে পারে পরিবার।
পরিবারের আরও অভিযোগ, কিন্তু এর মাঝেই স্থানীয় বিধায়ক অরিন্দম গুঁই মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। এজন্য বিধায়ক এবং ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান তাঁদের বাড়িতে গিয়ে ২০ লক্ষ টাকা অফারও করেন। মামলাকারীর আইনজীবী প্রীতম মজুমদার জানান, ঘটনার পর তিনমাস পেরলেও যথাযথ ধারায় মামলা রুজু করা হয়নি। তাই আপাতত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন মৃত ছাত্রটির মা। হাইকোর্টে গ্রীষ্মাবকাশের পর বিচারপতি জয় সেনগুপ্তর এজলাসে মামলাটির শুনানির সম্ভাবনা।
যদিও অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিধায়ক অরিন্দম গুঁই বলেন, ‘ওই দুর্ঘটনার কয়েকদিন পর, সমবেদনা জানাতে মৃত ছাত্রের পরিবারের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু টাকা অফার কিংবা চাপসৃষ্টি করার মতো যাবতীয় অভিযোগই ভিত্তিহীন।’