নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাড়িতে আচমকা লাগা আগুনে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবতে বসেছে। লেলিহানের গ্রাসে পুড়ে খাঁক হয়েছে পরীক্ষার্থীর যাবতীয় বই, নোটস সহ সবকিছু। শুধু অ্যাডমিট কার্ড ওই ছাত্রের সঙ্গে থাকায় সেটা রক্ষা পেয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই ওন্দায় বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের জেরে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এখন অথৈ জলে। মঙ্গলবার ওই পরীক্ষার্থী যখন পরীক্ষা দিয়ে ফিরছিল তখনই বাড়িতে আগুন লাগে। বাঁকুড়ার ওন্দা থানার হরিহরপুর গ্রামে এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার তৃণমূল ও বিজেপি নেতৃত্ব ওই পরীক্ষার্থীর বাড়ি যায়। রাজনৈতিক নেতারা দুর্গত পরিবারটিকে সাহায্য করেন। ওন্দা থানার পুলিশ আধিকারিকরাও সেখানে পৌঁছান। পুলিশের তরফে পরীক্ষার্থীকে বই-খাতা সহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই পরীক্ষার্থীর নাম অর্পণ ধীবর। সে গড় কোটালপুর রবীন্দ্র বিদ্যানিকেতন হাইস্কুলের পড়ুয়া। ওন্দার কালিসেন উচ্চ বিদ্যালয় অর্পণের পরীক্ষাকেন্দ্র। অর্পণের বাবা তরুণ ধীবর পেশায় গাড়ি চালক। মা রীনা ধীবর গৃহবধূ। অর্পণরা দুই ভাই। ছোট ভাই প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। রীনাদেবীর কথায়, ঘটনার সময় আমি পড়শির বাড়ির ছাদে শুয়েছিলাম। বড় ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল। ছোট ছেলেও স্কুলে ছিল। ওইসময় ইটের গাঁথনি ও অ্যাসবেসটসের ছাউনি দেওয়া আমাদের ঘরে কোনোভাবে আগুন লেগে যায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। পাড়ার লোকজন পাম্প চালিয়ে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নেভান। ততক্ষণে বাড়ির সবকিছু পুড়ে গিয়েছে। বাড়ির অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে অর্পণের বইখাতাও পুড়ে গিয়েছে। আমি বাড়িতে থাকলে অন্তত ছেলের বইখাতাগুলো বাঁচাতে পারতাম। সেই আক্ষেপটাই বেশি হচ্ছে।
এদিন মাধ্যমিকের কোনও পরীক্ষা ছিল না। ঘটনাস্থলে গিয়ে অর্পণকে ছাইয়ের গাদা থেকে বই, নোটস্ খুঁজতে দেখা যায়। পুড়ে যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে যদি কিছু পাওয়া যায়, এই ভেবে ওই পরীক্ষার্থী ঘরের মধ্যে হাতড়ে বেড়াতে থাকে। অর্পণ বলে, পরীক্ষা থাকায় অ্যাডমিট কার্ড সঙ্গেই ছিল। সেই কারণেই ওটা রক্ষা পেয়েছে। বাকি সবকিছুই আগুনে পুড়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত মাত্র দু’টি পরীক্ষা হয়েছে। শুক্রবার ইতিহাস রয়েছে। তার আগে আমাদের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেল। কীভাবে বাকি পরীক্ষা দেব বুঝতে পারছি না।
ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা বলেন, এদিন আমরা দুর্গত পরিবারটির হাতে ত্রাণ সামগ্রী ও আর্থিক সাহায্য তুলে দিয়েছি। আগামী দিনেও কোনো প্রয়োজন হলে আমরা ওই পরিবারের পাশে থাকব। এদিকে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন, ওই পরীক্ষার্থীর বাড়িটি ফের আগের অবস্থায় ফেরাতে যা খরচ হবে তা আমরা দিচ্ছি। এদিন ওই পারিবারটিকে দলের তরফে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে।