নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: খাল দখল করে তোলা হয়েছে কংক্রিটের দেওয়াল। সেখানে রীতিমতো দোকানঘর তৈরি হচ্ছিল। নির্মাণকারীকে বারে বারে নিষেধ করা হলেও কানে তোলেননি তিনি। অবশেষে এ নিয়ে জলঘোলা হতেই নড়েচড়ে বসেছে পুরসভা। তারা কাজ বন্ধের পাশাপাশি ওই বেআইনি নির্মাণ দ্রুত ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেববাগান এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রাম শহরের একপ্রান্ত দিয়ে বয়ে গিয়েছে নোয়াই খাল। বর্ষার সময় এই খালই হল নিকাশির অন্যতম মাধ্যম। তবে বর্তমানে এই খালের অবস্থা বেহাল। সংস্কার না হওয়ায় গতি হারিয়েছে খাল। তার উপর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে খালের একাংশ দখল করে তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের দোকান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাহেববাগানের প্রণবকন্যা আশ্রমের ঠিক উল্টোদিকে এক প্রভাবশালী এই দোকান তৈরি করছেন। প্রতিবাদ করায় হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের। দিনে অবশ্য কাজ হয় না। রাত নামলেই আলো জ্বালিয়ে চলে নির্মাণকাজ। ফলে বর্ষার সময় এলাকাবাসী চূড়ান্ত সমস্যার মধ্যে পড়বেন। ব্যাহত হবে নিকাশি ব্যবস্থা। এ নিয়ে পুরসভার পাশাপাশি সেচদপ্তর ও মধ্যমগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই এলাকার বাসিন্দা মঙ্গল মল্লিক, পুতুল দেবনাথ, অঞ্জু সরকাররা বলেন, সরকারি জায়গা দখল করে রেখেছেন এক প্রভাবশালী ব্যক্তি। তিনি পাকাপোক্তভাবেই দোকান তৈরি করছেন। আমরা বাধা দিয়েছিলাম কাজে, কিন্তু তিনি তা শোনেননি। উল্টে আমাদের শাসিয়েছেন। এমনিতেই খালের অবস্থা খারাপ, তার উপর খালের একাংশ দখল হয়ে গেলে এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। আমরা চাই, বেআইনি নির্মাণ দ্রুত ভেঙে ফেলা হোক। এনিয়ে মধ্যমগ্রাম পুরসভার চেয়ারম্যান নিমাই ঘোষ বলেন, এ নিয়ে সেচদপ্তরের সঙ্গে কথা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হবে। কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। খালের পাশে যাঁরা সরকারি জায়গা দখল করে রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেবে সেচদপ্তর। এদিকে, এই নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিরোধীদের দাবি, শাসকদলের মদত ছাড়া কারও পক্ষে খাল দখল করা সম্ভব নয়। ফলে এই নির্মাণ আদৌ ভাঙা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।