Bartaman Logo
১ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রায়চৌধুরীদের ৩৫০ বছরের পুজো, আসেন মধুসূদন-বঙ্কিম

সাড়ে তিনশো বছর বয়স বারুইপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের দূর্গাপুজোর।

রায়চৌধুরীদের ৩৫০ বছরের পুজো, আসেন মধুসূদন-বঙ্কিম
  • ১ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: সাড়ে তিনশো বছর বয়স বারুইপুরের রায়চৌধুরী পরিবারের দূর্গাপুজোর। জমিদার রাজবল্লভ রায়চৌধুরীর হাত দিয়ে পুজো শুরু হয়েছিল। অষ্টমীতে অঞ্জলি দিতে এ বাড়িতে এসেছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। জমিদারি প্রথা, রীতি, ঐতিহ্য ও নিয়ম মেনে এখনও হয়ে চলেছে পুজো। এখন রাসমাঠে দুর্গাদালানে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। কৃষ্ণনগরের মৃৎশিল্পীরা বংশপরম্পরায় প্রতিমা নির্মাণ করে আসছেন। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো। বোধনে তিনজন ব্রাহ্মণ চণ্ডীপাঠ করেন। পরিবারের সদস্য অমিয়কৃষ্ণ রায়চৌধুরী বলেন, ‘সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বারুইপুর আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট থাকাকালীন বারুইপুরে আসতেন। সেসময় একবার দূর্গাপুজো পড়েছিল। ঠাকুরদার মুখে শোনা, তিনি অষ্টমীতে বাড়িতে এসে মায়ের কাছে অঞ্জলি দিয়েছিলেন অন্যদের সঙ্গে। তাঁকে দেখে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল মানুষের মধ্যে।’ রায়চৌধুরীদের পুজোয় সপ্তমী থেকে নবমী পাঁঠাবলি হয়। নবমীতে আখ ও কুমড়ো বলিও হয়। এই পরিবারের সদস্যরা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। পুজোর কয়েকদিন তাঁরা আসেন। আনন্দ উপভোগ করেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বহু জায়গা থেকে মানুষ আসে পুজো দেখতে। পরিবার জানিয়েছে, পুজো শেষে মানুষকে ভোগ খাওয়ানো হয়। দশমীতে বাড়ির মহিলাদের সিঁদুর খেলা আলাদা আকর্ষণ। চল্লিশ জন বাহক পায়ে হেঁটে দেবীকে কাঁধে করে নিয়ে যান সদাব্রত ঘাটে। মায়ের সামনে রুপোর পাখা, রুপোর চামর দুলিয়ে ঢাকঢোল সহযোগে শোভাযাত্রা হয়। প্রাচীন রীতি মেনে নীলকণ্ঠ পাখি বিসর্জনের পর সদাব্রত ঘাট থেকে ছাড়া হয় কৈলাশের দিকে। বার্তা দেওয়া হয়, মা যাচ্ছেন।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ