নির্মাল্য সেনগুপ্ত, রায়গঞ্জ: আন্দোলনের দুই মুখকে সামনে রেখে এবার জমজমাট লড়াই রায়গঞ্জ বিধানসভায়। একদিকে আশা কর্মীদের আন্দোলনের মুখ হিসেবে পরিচিত এসইউসিআই নেত্রী মাধবীলতা পাল। অন্যদিকে, টোটো আন্দোলনের সক্রিয় ভূমিকায় থাকা সিপিএমের শ্রমিক সংগঠনের নেতা জীবানন্দ সিংহ। দুই যুযুধানই এবার ভোটের মঞ্চে। দু’জনেরই দাবি উন্নয়ন। একজন আশাকর্মীদের দাবিদাওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন লড়াই করছেন। তাঁর দাবি, আশাকর্মীদের নিয়ে আন্দোলনের ফলে কিছুটা হলেও রাজ্য সরকারের টনক নড়েছিল। যার ফলস্বরূপ আশাকর্মীদের ভাতা বেড়েছে। অন্যদিকে, টোটো নিয়ে আন্দোলনই আলাদা করে জীবানন্দকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ওই আন্দোলনে শুধু রায়গঞ্জ নয়, জেলাজুড়ে টোটো চালকরা তাঁদের অধিকারের লড়াই করেছেন। এই দুই যুযুধানের লড়াই বিধানসভার ভোট বাক্সে বড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছে রায়গঞ্জের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রায়গঞ্জের এসইউসিআই প্রার্থী মাধবীলতা পাল বলেন, জনগণ যথেষ্ট সমস্যার মধ্যে রয়েছে। ওষুধ, বিদ্যুৎ সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি হয়েই চলেছে। এই পরিস্থিতিতে মানুষ যাতে আন্দোলন করতে না পারে, তার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার নতুন অস্ত্র নিয়েছে ধর্মীয় মেরুকরণের। আমরা এর ঘোর বিরোধী। আমরা এর প্রতিবাদ করছি।
তাঁর কথায়, আশা কর্মীদের নিয়ে আন্দোলন শুধু রাজ্যে নয়, দেশজুড়ে করেছি আমরা। আমাকে এবং অন্য নেত্রীদের আটকে আন্দোলন দমানোর চেষ্টা হয়েছে। বাড়ি ঘেরাও হয়েছে। ট্রেনে উঠতে দেওয়া হয়নি। গত কয়েকমাসে মানুষ এসব দেখেছে। আমরা রুখে দাঁড়িয়েছি। মানুষ সেসব মনে রেখেছে। পাশাপাশি প্রার্থী হিসেবে আমাদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে রায়গঞ্জের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নতি, রাস্তাঘাট সংস্কার।
কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ আছে তাঁর। তিনি বলেন, এসআইআরের নামে কেন্দ্রীয় সরকার সাধারণ ভোটারদের বাদ দিচ্ছে। বিশেষত সংখ্যালঘু মানুষরা টার্গেট হচ্ছে।
রায়গঞ্জের বাম প্রার্থী জীবানন্দ বলেন, টোটো চালকদের স্বার্থ রক্ষা ও রায়গঞ্জ শহরের যানজট প্রতিরোধ নিয়ে আন্দোলন করেছি। যানজট কমাতে ও টোটো চালকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন ও রায়গঞ্জ পুরসভাকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম। নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে নো টোটো জোন করার পাশাপাশি শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত করে সেখান থেকে টোটো লেন চালু করার দাবি ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকার টোটো রেজিস্ট্রেশন সহ একাধিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যা ভোটের জন্য থমকে আছে। সেই আন্দোলন থেকে এবার ভোটের ময়দানে জীবানন্দ। তিনি বলেন, শুধু টোটো নয়, জয়ী হলে রায়গঞ্জের পুরসভা ক্ষেত্র, স্বাস্থ্য পরিষেবা, নারী সুরক্ষা, কর্মসংস্থানে জোর দেব।