Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাদারিহাট এবার কার? তৃণমূল ও গেরুয়া শিবিরের জোর তরজা

মাদারিহাটে বিজেপিকে ভোট দিয়ে আর ভুল করতে চাইছে না মানুষ। বিধানসভার চা বাগানগুলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে একথা।

মাদারিহাট এবার কার? তৃণমূল ও গেরুয়া শিবিরের জোর তরজা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রবীন রায়, আলিপুরদুয়ার: মাদারিহাটে বিজেপিকে ভোট দিয়ে আর ভুল করতে চাইছে না মানুষ। বিধানসভার চা বাগানগুলিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে একথা। এর কারণ কি? সাধারণ মানুষ বিজেপির ১০ বছরের ও তৃণমূলের এক বছরের বিধায়কের উন্নয়নের খতিয়ান নিয়ে তুলনা শুরু করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, সারা বছর বিজেপির নেতাদের এলাকায় দেখাই যায় না। শুধু ভোট এলে এলাকায় আসেন তাঁরা। যদিও বিজেপির দাবি, মাদারিহাটে তাদের জয়ের রেকর্ড ভালো। এবারও দল ভালো ফল করবে। 

Advertisement

আলিপুরদুয়ার জেলার এই বিধানসভা কেন্দ্রের আওতায় ১৯টি চা বাগান রয়েছে। বাগানের শ্রমিকদের ভোটেই ঠিক হয় এখানে কোন দল জিতবে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্য সরকার চা বাগানগুলিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অ্যাম্বুলেন্স, ক্রেশ, স্কুল বাস, চা সুন্দরীর আবাস ও পানীয় জল প্রকল্প চালু করেছে। মহিলা শ্রমিকদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা মিলছে। শ্রমিক পরিবারের বেকার ছেলেমেয়েদের যুবসাথীর সুবিধা নিতে আবেদন জমা দেওয়ারও হিড়িক পড়েছে। এবার তারই প্রতিফলন দেখা যাবে ইভিএমে। যদিও বিজেপি পাল্টা প্রচার করছে, চা বাগানগুলিতে কাজ হচ্ছে কেন্দ্রের টাকায়। শাসকদলের লোকজন সেটাকেই রাজ্য সরকারের প্রকল্প বলে ঢাক পেটাচ্ছে। 
ভুটানের গোমটুর পাশে মাকরাপাড়া চা বাগানের তারা লাইনের শ্রমিক মণীশ থাপার স্ত্রী পূর্ণি থাপা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান। বিনামূল্যে রেশন নেন। মণীশ বলেন, মনোজ টিগ্গা দু’বার বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু উন্নয়ন তো দূরঅস্ত, কোনোদিন বাগানেই আসেননি। জয়প্রকাশ টোপ্পো বিধায়ক হওয়ার পর থেকে একবছরের মধ্যে আমাদের বাগানের ভোল পাল্টে গিয়েছে। পানীয় জল এসেছে, রাস্তা হয়েছে, পথবাতি বসেছে। 
গোপালপুর চা বাগানের কলকাত্তা লাইনের বাসিন্দা শ্রমিক অমিত বরাইক। তাঁর স্ত্রী রঞ্জিতা বেগ বরাইক লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ অমিত এবার যুবসাথীর ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। তাঁর কথায়, বিজেপি নেতাদের এলাকায় দেখা যায় না। শুধু ভোটের সময় তাঁরা এসে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান। বিজেপিকে ভোট দিয়ে আর ভুল করব না। 
ভুটান সীমান্তে মাদারিহাটের আর একটি বাগান বান্দাপানি। হাটখোলা লাইনের শ্রমিক প্রেমচাঁদ কেরকেট্টা। তাঁর স্ত্রী ফুলো কেরকেট্টা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান। দুই ছেলে উজ্জ্বল, সুজল ও একমাত্র মেয়ে নিকিতা যুবসাথীর ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। প্রেমচাঁদ বলেন, রাজ্য সরকারের অনেক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছি। 
তৃণমূল বিধায়ক জয়প্রকাশ টোপ্পো বলেন,আমি এক বছরের বিধায়ক। তবে এক বছরে বাগানগুলিতে কি কাজ হয়েছে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বললেই তা বোঝা যাবে। বিজেপি এখানে সুবিধা করতে পারবে না। বিজেপির দু’বারের প্রাক্তন বিধায়ক বর্তমানে এমপি মনোজ টিগ্গা পাল্টা বলেন, জল জীবন মিশন সহ বাগানগুলিতে বহু প্রকল্পের কাজ হয়েছে কেন্দ্রের টাকায়। তৃণমূল সেটাকেই রাজ্য সরকারের প্রকল্প বলে চালাচ্ছে। আমরা শ্রমিকদের বোঝাব। মাদারিহাট আমাদের গড়। এবারও আমরাই জিতব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ