Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিষের রক্তে মা চণ্ডী লেখা পুঁথিই আনাড়ার চক্রবর্তীদের দেবী প্রতিমা

মায়ের মন্দির আছে বটে। কিন্তু মন্দিরে কোনও প্রতিমা নেই। মহিষের রক্ত দিয়ে মা চণ্ডী লেখা তালপাতার পুঁথি রয়েছে মন্দিরে। আর শতাধিক বছর ধরে এখানে ওই তাল পাতার পুঁথিকেই দেবী দুর্গা হিসেবে পুজো করা হয়।

মহিষের রক্তে মা চণ্ডী লেখা পুঁথিই আনাড়ার চক্রবর্তীদের দেবী প্রতিমা
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: মায়ের মন্দির আছে বটে। কিন্তু মন্দিরে কোনও প্রতিমা নেই। মহিষের রক্ত দিয়ে মা চণ্ডী লেখা তালপাতার পুঁথি রয়েছে মন্দিরে। আর শতাধিক বছর ধরে এখানে ওই তাল পাতার পুঁথিকেই দেবী দুর্গা হিসেবে পুজো করা হয়। পাড়া ব্লকের আনাড়ার চক্রবর্তী পরিবারে এটাই দস্তুর। কাশীপুরের দেবী বাড়ির নির্ঘণ্ট অনুসারে এখানে জিতাষ্টমীর পরদিন দেবীর বোধন হয়। এক সময় এই পুজোয় ছাগ বলি হতো। তবে করোনার পর থেকে বলি তুলে দেওয়া হয়েছে। আনাড়ায় চক্রবর্তীদের পরিবারে এই পুজো নিয়ে ১৬ দিন ধরে উন্মাদনা থাকে। বাড়ির পুজোয় পরিবারের সব আত্মীয় স্বজনরা শামিল হন।

Advertisement

চক্রবর্তী পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০০ বছর আগে কনৌজ থেকে তাঁদের পরিবারের সদস্য বনমালী পণ্ডিত ওই তালপাতার পুঁথি নিয়ে এসেছিলেন। সেই পুঁথি নিয়েই তিনি পুজো শুরু করেন। তাঁরা ছিলেন কাশীপুরের রাজার ব্রাহ্মণ। তাই কাশীপুরের রাজার অনুমতি নিয়েই পুঁথিকে দেবী হিসেবে পুজো করা হয়। পুজোয় এখানে কলা বউ থাকে না। তবে নবপত্রিকা দিয়ে মায়ের পুজোর শুরু হয়। সপ্তমীতে মাকে আহ্বান করা হয়। অষ্টমীতে দু’বার পুজো হয়। সকালে দুর্গা এবং সন্ধ্যায় ভৈরবী হিসেবে পুজো হয়। দশমীতে মাকে অভিনব প্রথায় বিদায় দেওয়া হয়। বিদায়ের সময় একটি থালায় মন্দিরের বাইরে রৌদ্রের মধ্যে চ্যাং মাছ পোড়া এবং পান্তা ভাত দেওয়া হয়। এখানে মাকে বিসর্জন দেওয়া হয় না।
পরিবারের সদস্য বিধান চক্রবর্তীর কথায়, কর্মসূত্রে যাঁরাই বাইরে থাকেন, পুজোর সময় সবাই বাড়িতে চলে আসেন।
পরিবারের এক মহিলা সদস্য বলেন, রীতি অনুসারে পরিবারে কোনও মহিলা মায়ের ভোগ রান্না করতে পারেন না। ব্রাহ্মণ রাঁধুনী এসে ভোগ রেঁধে মাকে নিবেদন করেন। পরে পরিবারের মহিলারা দর্শনার্থীদের ভোগ বিলি করেন। পুজোর চার দিন প্রদীপ জ্বালানোর পাশাপাশি রাত জাগতে হয়। মাকে (তালপাতার পুঁথিকে) কিছুক্ষণ রৌদ্রে রাখার পর ফের সযত্নে মন্দিরে রেখে দেওয়া হয়। এখানে মন্দিরে মা চণ্ডী সারা বছর বিরাজ করেন। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ