Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মা ও দুই সন্তানের দেহ উদ্ধার, রাস্তা অবরোধ

মা ও দুই সন্তানের দেহ উদ্ধার, রাস্তা অবরোধ
  • ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: কাজের সূত্রে স্বামী থাকেন বর্ধমানে। সেখানে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। অনটনের সংসারে দুই সন্তানকে বড় করতে দিনমজুরি করতেন মহম্মদবাজারের ম্যানেজারপাড়ার বাসিন্দা লক্ষ্মী মার্ডি (৩৫)। শুক্রবার সকালেও পাশের গ্রাম গণপুরে ধানজমির কাজে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। অনেক্ষণ আসছেন না দেখে লক্ষ্মীকে ডাকতে তাঁর বাড়িতে যান তাঁর বউদি আলতি মার্ডি। ঘরের দরজা ঠেলেই আঁৎকে ওঠেন তিনি। দেখেন, খাটিয়ার উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে লক্ষ্মী ও তাঁর মেয়ে রূপালি মার্ডির (১০) নিথর দেহ। আর মেঝেতে পড়ে রয়েছে লক্ষ্মীর শিশুসন্তান বিশ্বজিৎ মার্ডির (৫) দেহ। আলতির চিৎকারে প্রতিবেশীরা জড়ো হন। পুলিস এলে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাদের। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে কাঠ, টায়ার জ্বালিয়ে দফায় দফায় জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু হয়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব আসরে নামে। শুরু হয়ে যায় তৃণমূল-বিজেপি চাপানউতোরও। এসবের মধ্যে দাবি ওঠে, পুলিস কুকুর এনে তদন্ত করতে হবে। শেষ পর্যন্ত বহরমপুর থেকে পুলিস কুকুর এনেই তদন্ত শুরু হয়।
Advertisement
কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুলিস দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের নাম নয়ন বিত্তার ও সুনীল মির্ধা। পেশায় সাফাই কর্মী এই দু’জনই মল্লারপুর থানা এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিস। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে রয়েছে পরকীয়া সম্পর্ক। ধৃত নয়নের সঙ্গে লক্ষ্মীর সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার রাতেও সে লক্ষ্মীর বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানেই দু’জনের মধ্যে ঝামেলা এবং যার পরিণতিতে ভোঁতা কোনও বস্তু দিয়ে তিনজনকে আঘাত করে খুন করা হয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর নয়নকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সুনীলকে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ