সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেছে শুনলে আজও অনেকেই হতাশা অনুভব করেন। কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে আজও কোনও কোনও বাড়িতে বধূর উপর নেমে আসে নির্যাতনের খাঁড়া। আবার কন্যাভ্রূণ হত্যার ঘটনাও ঘটে আকছার। কন্যাসন্তানকে ফেলে রেখে দম্পতির পালিয়ে যাওয়ার সাক্ষীও বহু হাসপাতাল। এই পরিস্থিতিতে বিরল উদাহরণ রাখলেন অরিজিত সরকার। সদ্যোজাত কন্যা ও স্ত্রীকে রাজকীয় মর্যাদায় হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে গেলেন। সে রীতিমতো উৎসবের আয়োজন। যা দেখে উচ্ছ্বসিত বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকর্মীরা। খুশি গ্রামবাসীরাও। অরিজিত সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরাও। তাঁদের অনেকেই বলছেন, ‘আজকের সমাজে অরিজিতবাবুর মতো বাবার খুব প্রয়োজন। উনি কন্যাভ্রূণ হত্যা প্রতিরোধ ও বধূ নির্যাতনের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন।›
Advertisement
মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ থানার জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে বাড়ি অরিজিত সরকারের। পেশায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। এলাকাতেই প্রাকটিস করেন। তাঁর স্ত্রী মিষ্টি সরকার রঘুনাথগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফুটফুটে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। দম্পতির এটি দ্বিতীয় সন্তান। তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। ফলে অরিজিত ও মিষ্টি দু’জনেই চেয়েছিলেন দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে হোক। সেই আশা পূরণ হওয়ায় আনন্দে আত্মহারা দম্পতি। তিনি মেয়ে ও স্ত্রীকে বাড়ি ফেরানোর মুহূর্তটাকে স্মরণীয় করে রাখতে অভিনব আয়োজন করেন। ফুল দিয়ে সাজিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় ১টি স্করপিও। সঙ্গে ব্যান্ডের দল। গান বাজনায় সে এক উৎসবের আবহ। তখন উৎসবের মেজাজ হাসপাতাল চত্বরে।
গাড়ির সামনে নবজাতকের একটি বড় ছবি লাগানো হয়। গাড়িটিকে পুতুল সহ বিভিন্ন খেলনা ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়। আত্মীয় পরিজনরা পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে সদ্যোজাত ও প্রসূতিকে অভ্যর্থনা জানান। ফুল, বেলুন দিয়ে মাতৃযান প্রকল্পের অ্যাম্বুল্যান্স সাজিয়ে তোলা হয়। তাতে সযত্নে তোলা হয় মা ও মেয়েকে। চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে রওনা দেন বাড়ির পথে। বাড়ির মহিলা থেকে আত্মীয় পরিজনরা গান বাজনার তালে নাচতে নাচতে তাঁদের সাদরে বরণ করেন। সরকার বাড়িতে মিষ্টির পর্যাপ্ত আয়োজন ছিল। গ্রামের সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। সরকার বাড়ির সদস্যরা বলছিলেন, ‘বাড়িতে মেয়ে ছিল না। আমরা মেয়েদের খুব ভালোবাসি। এলাকার ছোট মেয়েদের খুব পছন্দ করি। আজ আমাদের ঘরেই মেয়ে এল। এটা আমাদের কাছে পরম প্রাপ্তি।’
অজিজিত সরকার বলেন, ‘প্রথম সন্তান ছেলে হয়েছে। এবার একটা মেয়ে চেয়েছিলাম। ভগবান আমার প্রার্থনা পূর্ণ করেছেন। চিকিৎসক এই খুশির খবরটা দেওয়ার পরই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ি। মেয়ে জন্মগ্রহণ করলে অনেকেই মন খারাপ করেন। আমি মনে করি, ঘরে মা লক্ষ্মী এসেছেন। মিষ্টি সরকার বলেন, ‘মেয়েদের এমন সম্মানই দেওয়া উচিত। সকলেরই আমার স্বামীর মতো মানসিকতা হওয়া দরকার।
গাড়ির সামনে নবজাতকের একটি বড় ছবি লাগানো হয়। গাড়িটিকে পুতুল সহ বিভিন্ন খেলনা ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়। আত্মীয় পরিজনরা পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে সদ্যোজাত ও প্রসূতিকে অভ্যর্থনা জানান। ফুল, বেলুন দিয়ে মাতৃযান প্রকল্পের অ্যাম্বুল্যান্স সাজিয়ে তোলা হয়। তাতে সযত্নে তোলা হয় মা ও মেয়েকে। চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীদের মিষ্টিমুখ করিয়ে রওনা দেন বাড়ির পথে। বাড়ির মহিলা থেকে আত্মীয় পরিজনরা গান বাজনার তালে নাচতে নাচতে তাঁদের সাদরে বরণ করেন। সরকার বাড়িতে মিষ্টির পর্যাপ্ত আয়োজন ছিল। গ্রামের সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। সরকার বাড়ির সদস্যরা বলছিলেন, ‘বাড়িতে মেয়ে ছিল না। আমরা মেয়েদের খুব ভালোবাসি। এলাকার ছোট মেয়েদের খুব পছন্দ করি। আজ আমাদের ঘরেই মেয়ে এল। এটা আমাদের কাছে পরম প্রাপ্তি।’
অজিজিত সরকার বলেন, ‘প্রথম সন্তান ছেলে হয়েছে। এবার একটা মেয়ে চেয়েছিলাম। ভগবান আমার প্রার্থনা পূর্ণ করেছেন। চিকিৎসক এই খুশির খবরটা দেওয়ার পরই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ি। মেয়ে জন্মগ্রহণ করলে অনেকেই মন খারাপ করেন। আমি মনে করি, ঘরে মা লক্ষ্মী এসেছেন। মিষ্টি সরকার বলেন, ‘মেয়েদের এমন সম্মানই দেওয়া উচিত। সকলেরই আমার স্বামীর মতো মানসিকতা হওয়া দরকার।



