Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মা বনবিবির স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেছিলেন বাবর আলি, সম্প্রীতির মেলায় জমজমাট জামালপুর

মা বনবিবির স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করেছিলেন বাবর আলি, সম্প্রীতির মেলায় জমজমাট জামালপুর
  • ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: নদের জলের তলায় রয়েছেন মা। তাঁকে জল থেকে তুলে আনার জন্য স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন জামালপুরের মীর বাবর আলি। নির্দেশ পাওয়ার পর আর তিনি দেরি করেননি। মা’কে জল থেকে তুলে এনে প্রতিষ্ঠা করেন। মা বনবিবি নামে পরিচিত লাভ করেন। সেই সময় থেকে মা জামালপুরে পূজিত হয়ে আসছেন। পুজো উপলক্ষ্যে প্রতিবছর মাঘ মাসের শেষ দিকে মেলা বসে। এবারও শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে মিলন উৎসব শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই মেলা প্রকৃত অর্থেই মিলনমেলা। হিন্দু মুসলিম সব সম্প্রদায়ের মানুষ মা বনবিবির কাছে প্রার্থনা করেন। মনের ইচ্ছের কথা জানিয়ে যান। বাসনা পূর্ণ হলে পরের বছর আবার মায়ের কাছে পুজো দিয়ে যান। সম্প্রীতির এমন ছবি বর্তমান পরিস্থিতিতে নজির তৈরি করেছে। খাদিম সাইফুদ্দিন বলেন, দামোদর নদ দিয়ে নৌকা গেলে তা আটকে যেত। মাছ ধরার জালও জল থেকে তোলা যেত না। মা বনবিবির নাম নিলে সমস্যা দূর হতো। সেটা ১০০ বছর আগের কথা। সেই সময় আমাদের পূর্ব পুরুষ বাবর আলিকে দেবী স্বপ্নাদেশ দেন। তিনি মর্যাদার সঙ্গে পাথরের মূর্তি জল থেকে তুলে আনেন। তারপর থেকেই সমস্যা মিটে যায়। দামোদরে গিয়ে কেউ সমস্যায় পড়লে বনবিবির নাম নিতেন। 
Advertisement
জামালপুর পঞ্চয়েত পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মেহেমুদ খান বলেন, ৭৫ বছর ধরে এই পুজোর সময় গ্রামে মেলা বসছে। এখানে ধর্মের ভেদাভেদ নেই। সবাই মেলায় শামিল হন। মনের ইচ্ছে পূরণের আশায় অনেকেই বনবিবির কাছে প্রার্থনা করেন। সুন্দরবনেও এই দেবীর পুজো বহু বছর ধরে হয়ে আসছে। শোনা যায় বনবিবির জন্য নদী পেরিয়ে বাঘ কখনই গ্রামে আসত না। 
জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূর্ণিমা মালিক বলেন, বনবিবির পুজোর গুরুত্ব এই এলাকার বাসিন্দাদের কাছে অন্য রকম। সেই সময় এই এলাকার বহু বাসিন্দা দামোদরে মাছ ধরতে যেতেন। নদে নৌকা নামানোর পরই তা আটকে যেত। হাজার চেষ্টা করার পরেও তা সরানো যেত না। কিন্তু বনবিবির পুজো শুরুর পর থেকেই সহজেই নদে নৌকা চলচল করত। মাছ ধরার জন্য জাল ফেললেও সমস্যা হয় না। এলাকার বাসিন্দাদের দৃঢ় বিশ্বাস মায়ের কাছে প্রার্থনা করলে মন বাসনা পূরণ হয়। সেই আশায় হিন্দু, মুসলিম সব সম্প্রদায়ের মানুষ এই সময় বনবিবিতলায় হাজির নন। সম্প্রীতির অটুট বন্ধনের ছবি দেখা যায়। স্থানীয়রা বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক ফয়দা তোলার জন্য চারদিকে বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। কিন্তু জামালপুরের এই ছবিই প্রমাণ করে এই বাংলা বিভাজন নয়, সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ