Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ল্যাম্পস লিমিটেডের কেকের চাহিদা বাড়ছে, পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি

ল্যাম্পস লিমিটেডের কেকের চাহিদা বাড়ছে, পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেক ছাড়া বড়দিন জমে না। এবছর আউশগ্রাম জঙ্গলমহলে সরকারি ল্যাম্পস লিমিটেডের বেকারির কেকের চাহিদা ব্যাপক। বড়দিন উপলক্ষ্যে তৈরি হচ্ছে বিশেষ কেক। শুধু জঙ্গলমহলেই নয়, আশপাশের শহরেও আউশগ্রামের বেকারির কেকের সুনাম রয়েছে। বহু শ্রমিক সেখানে কাজ করেন। তবে বেকারির পরিকাঠামো উন্নয়নে শ্রমিকরা চান আধুনিক প্রযুক্তি। উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে কেক তৈরি করলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আউশগ্রাম-২ বিডিও চিন্ময় দাস বলেন, আমি নিজে ল্যাম্পস লিমিটেডের বেকারি পরিদর্শন করেছি। কারখানার আধুনিকীকরণের জন্য যা যা দরকার আমরা তার প্রস্তাব পাঠিয়েছি। 
Advertisement
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী উন্নয়ন সমবায় নিগম লিমিটেডের উদ্যোগে ১৯৭৬ সালের ১ মার্চ আউশগ্রাম-২ ব্লক ল্যাম্পস লিমিটেড তৈরি করে। মূলত আদিবাসীদের উন্নয়নের জন্যই এমন সমিতি তৈরি হয়। সুয়াতা গ্রামের ভিতরে প্রায় দু’ বিঘা জমির উপর সমবায়টি গড়ে ওঠে। এই সমবায়ের অধীনেই রয়েছে বেকারি। এখানে পাউরুটি, বিভিন্ন বিস্কুট থেকে বড়দিনের কেক তৈরি হয়। এখানকার বড়দিনের স্পেশাল কেকের চাহিদা বেশি। কিন্তু এখনও সেই মান্ধাতা আমলের কাঠের চুল্লিতেই কেক তৈরি হয়। হাতেই ময়দার মণ্ড তৈরি করে ১২ জন কর্মী সারাদিনে প্রায় আড়াই থেকে তিন ক্যুইন্টাল কেক, বিস্কুট, পাঁউরুটি তৈরি করেন। এখানকার কেক আউশগ্রাম জঙ্গলমহল সহ মানকর, বুদবুদ, আসানসোল, দুর্গাপুরের শিল্পাঞ্চল বাজারগুলিতে সাপ্লাই দেওয়া হয়। এখন নাওয়াখাওয়া ভুলে কর্মীরা কেক তৈরি করে চলেছেন। ল্যাম্পস লিমিটেডের কর্মী  শুভতোষ চট্টোপাধ্যায়  বলেন, আমাদের সমিতির সব থেকে বেশি আয় বেকারি থেকেই হয়। খরচ, কর্মীদের বেতন দিয়েও মাসে প্রায় ১৫ হাজার টাকা উদ্বৃত্ত থাকে। সেই বেকারির পরিকাঠামো উন্নয়ন বড় প্রয়োজন। এখন কাঠের দাম বেড়েছে। উন্নত প্রযুক্তির বড় বেকারির সঙ্গে পাল্লা দিতে আমরা পারছি না। অথচ আমাদের কেকের চাহিদা রয়েছে ভালোই। বৈদ্যুতিক চুল্লি, রুটি, কেক সেঁকার আভেন, কেক তৈরির আধুনিক মেশিন সহ সরঞ্জাম দরকার। তাহলে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি আরও বেশি পরিমান কেক তৈরি করতে পারব। বড়দিনে কেকের ভালো বাজার রয়েছে, অথচ আমরা তা ধরতে পারছি না। বেকারি কারখানার কর্মীরা বলেন, সারাদিনে ময়দা মাখাতে আর মণ্ড তৈরি করতে আমাদের যে সময় লাগে, উন্নত প্রযুক্তি এলে তা কম লাগবে। কেকের স্বাদও ভালো হবে। বড়দিনে সবাই তো চায় ভালো কেক খেতে। 
আউশগ্রামের ল্যাম্পস লিমিটেড সাতটি পঞ্চায়েতের একজন করে সদস্য নিয়ে তৈরি। বর্তমানে এই সমিতির অধীনে দু’ হাজার ৫০৪ জন সদস্য রয়েছে। তিনটি অঞ্চলে রেশন দোকানও রয়েছে। সমিতির কেক উৎপাদন ইউনিট সব থেকে বড় ও লাভজনক। প্রতিদিন হকাররা এখান থেকে রুটি, কেক নিয়ে গিয়ে বাজারে সাপ্লাই দেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ