Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লুট করা বালিতেই ফুলে ফেঁপে উঠেছে বাহুবলীরা

লুট করা বালিতেই ফুলে ফেঁপে উঠেছে বাহুবলীরা
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুখেন্দু পাল, ইলামবাজার: অজয়ের বালি পাচার করে বাহুবলীরা ফুলেফেঁপে উঠছে। আর খেসারত দিতে হচ্ছে আমজনতাকে। পথে বেরিয়ে প্রতি পদে পদে তাঁদেরকে বিপদের মুখে পড়তে হয়। একসময় বালিভর্তি ‘ওভারলোডেড’ ট্রাক বা ডাম্পারের যাতায়াত বীরভূমে নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত চাপে বারবার রাস্তা বেহাল হয়েছে। সেই রাস্তা দিয়ে প্রাণ হাতে জেলার বাসিন্দাদের যাতায়াত করতে হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, শুধু ইলামবাজার নয়, নানুর সহ বিভিন্ন এলাকার রাস্তার পরিণতি একই হয়েছে। সরকারের খরচ বেড়েছে। বারবার সংস্কার করার পরও অতিরিক্ত বালিভর্তি ট্রাক যাতায়াতের জন্য রাস্তা টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে উঠেছে। এখন প্রশাসনের কড়াকড়ি থাকায় মাফিয়াদের কারবারে রাশ পড়েছে। আপাতত রাস্তায় ওভারলোডেড গাড়ি চলাচল বন্ধ। কিন্তু অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো না হওয়ায় এলাকার বাসিন্দাদের মন থেকে আতঙ্ক দূর হয়নি।
Advertisement
অজয় থেকে অবৈধ বালির কারবার কীভাবে চলত? স্থানীয়রা বলছেন, পুরোটাই ‘সিস্টেম’ মেনে চলত। ইলামবাজারের বিভিন্ন ঘাট থেকে ট্রাকে বালি তোলার পর তা ‘কাঁটা’য় পরিমাপ করা হতো। সেই কাঁটাগুলিও ছিল বাহুবলীদের নিয়ন্ত্রণে। সেখান থেকে ট্রাক বেরনোর পর চালকের হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়। তাতে বিশেষ চিহ্ন লেখা থাকে। সেটাই তাদের কাছে রক্ষাকবচ ছিল। তা দেখালেই রাস্তায় গাড়ি যাতায়াতে অবাধ ছাড়পত্র পাওয়া যায়। এছাড়া বালিভর্তি গড়ি ‘এসকর্ট’ করার জন্য থাকে লাইনম্যান। কোথাও গাড়ি আটকে গেলে তারা হাজির হয়। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এক বছর আগে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে বালিভর্তি একটি ট্রাক পরিবহণ দপ্তর আটক করে। সেই ট্রাকটি বীরভূম থেকে এসেছিল। অতিরিক্ত বালিভর্তি ট্রাকটি দাঁড় করানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই বাহুবলীরা হাজির হয়ে যায়। তারা পরিবহণ দপ্তরের কর্মীদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। কোনওরকমে প্রাণে বাঁচেন সরকারি কর্মীরা। ইলামবাজারের বাসিন্দারা বলছেন, এটা চেনা ছবি। কোথাও বাধা পেলে মাফিয়াদের লোকজন এভাবেই চড়াও হয়। সেই কারণে খুব বেশি তাদের বাধার মুখে পড়তে হয় না। ইলামবাজারের ঘাট থেকে বালিভর্তি ট্রাক বা ডাম্পার সোজা কলকাতায় পৌঁছে যায়। 
জয়দেবের ঘাট থেকে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। তাঁরা বলেন, মাফিয়াদের তাণ্ডবের জন্য আমজনতাকে প্রতি পদে পদে বিপদের মুখে পড়তে হয়। ‘মরশুমের’ সময় রাস্তাজুড়ে ডাম্পার চলে। রাস্তার এক পাশ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। ওভারলোডেড ডাম্পার যাতায়াতের ফলে জাতীয় সড়কও খানাখন্দে ভরে যায়। একই রাস্তা বারবার টাকা খরচ করে মেরামত করতে হয়েছে। প্রশাসন ময়দানে নামায় এলাকার বাসিন্দারা স্বস্তিতে রয়েছে। এই ছবি আগমী দিনেও অটুট থাকুক। এমনটাই চাইছে ইলামবাজার। 
                                       (শেষ)
সম্পর্কিত সংবাদ