নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: দলের পুরনো নেতাকর্মীদের পাত্তা না দেওয়া এবং জোর করে নবাগতা ‘শহুরে’ প্রার্থীকে চাপিয়ে দেওয়ার ফলেই তালডাংরায় বিজেপি-র ভরাডুবি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে আসা বহু নেতা-কর্মী এবারের ভোটের মুখে বসে যান। তারফলে দলের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে। তালডাংরা উপ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর রবিবার এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক বিপত্তারণ সেন। বিপত্তারণবাবু তালডাংরা বিধানসভার সিমলাপালের বাসিন্দা। ফলে তাঁর অভিযোগের গুরুত্ব রয়েছে বলে গেরুয়া শিবির মনে করছে।
Advertisement
বিপত্তারণবাবু বলেন, তালডাংরা আসনটি খালি হওয়ার পর থেকেই আমরা উপ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করি। প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিবেকানন্দ পাত্রের নাম প্রার্থী হিসেবে দলের কাছে প্রস্তাব করা হয়। বিধানসভার সমস্ত মণ্ডলের সভাপতিরা একবাক্যে ওই প্রস্তাব মেনে নেন। তাঁরা বিষয়টি জেলাস্তরে জানান। জেলা কোর কমিটির বৈঠকেও বিবেকানন্দবাবুকে টিকিট দেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই প্রস্তাব রাজ্যে পাঠানো হয়। আমরাও তাঁকে প্রার্থী ধরে ঘর গোছাতে থাকি। হঠাৎ দলে যোগদান করিয়ে অনন্যা রায় চক্রবর্তীকে প্রার্থী করা হয়। দু’দিন আগে দলে আসা বাঁকুড়া শহরের কাউন্সিলারকে তালডাংরার বিজেপি নেতাকর্মীদের উপর কার্যত চাপিয়ে দেওয়া হয়। তখন থেকে ‘বহিরাগতরা’ ছড়ি ঘোরাতে শুরু করে। আর আমরা ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে যাই। জেলার সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও আমাকে প্রচার তথা ভোটের কোনও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। অথচ ১৯৯৮ সাল থেকে আমি বিজেপি করছি। আমার মতো বহু বিজেপি নেতার কপালে একইরকম ‘অসম্মান’ জুটেছে। শহুরে প্রার্থীকে মেনে নিতে না পেরে বিজেপি কর্মীরা ভোটের আগে বসে যান। সেই কারণে দলের ফল এত খারাপ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী ঘোষণার আগের দিন পর্যন্ত তালডাংরায় আমরা ‘অ্যাডভান্টেজে’ ছিলাম। কিন্তু, ভুল প্রার্থী নির্বাচনের ফলে তৃণমূল কার্যত ওয়াকওভার পেয়ে যায়।
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুনীলরুদ্র মণ্ডল বলেন, উনি সংবাদ মাধ্যমে কী বলেছেন, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে বিপত্তারণবাবুর সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারব।
বিজেপি প্রার্থী অনন্যা রায় চক্রবর্তী বলেন, আমি শহরের কাউন্সিলার হলেও তালডাংরার ‘ভূমিকন্যা’। বাপেরবাড়ি হওয়ায় তালডাংরাতেই আমি বড় হয়েছি। ফলে আমাকে বহিরাগত বলা উচিত নয়। তাছাড়া আমি যোগ দেওয়ার আগে দল কাকে প্রার্থী হিসেবে স্থির করেছিল, তা আমার জানা নেই। আমি এনিয়ে কোনও মন্তব্যও করব না। দল আমার উপর ভরসা রেখেছিল। আমি নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটে লড়াই করেছি।
গত লোকসভা ভোটে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার ৮২৩০৭টি ভোট পেয়েছিলেন। এবার বিজেপি সাকুল্যে ৬৪৬৩৭টি ভোট পায়। ২০২১ সালের বিধানসভা ও গত লোকসভা নির্বাচনে তালডাংরা কেন্দ্রে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি-র কমবেশি হাজার দশেক ভোটের ব্যবধান ছিল। এবার তা ৩৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে মার্জিন একলপ্তে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিষয়টি বিজেপি নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। পরাজয়ের ধাক্কা সামলে সবে বিজেপি নেতারা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। তারইমধ্যে জেলাস্তরের নেতা বিস্ফোরক মন্তব্য করায় পদ্ম শিবির টলে গিয়েছে। আগামী দিনে ‘খেলা’ অনেক বাকি রয়েছে বলে ওই বিক্ষুব্ধ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুনীলরুদ্র মণ্ডল বলেন, উনি সংবাদ মাধ্যমে কী বলেছেন, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি নিয়ে বিপত্তারণবাবুর সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারব।
বিজেপি প্রার্থী অনন্যা রায় চক্রবর্তী বলেন, আমি শহরের কাউন্সিলার হলেও তালডাংরার ‘ভূমিকন্যা’। বাপেরবাড়ি হওয়ায় তালডাংরাতেই আমি বড় হয়েছি। ফলে আমাকে বহিরাগত বলা উচিত নয়। তাছাড়া আমি যোগ দেওয়ার আগে দল কাকে প্রার্থী হিসেবে স্থির করেছিল, তা আমার জানা নেই। আমি এনিয়ে কোনও মন্তব্যও করব না। দল আমার উপর ভরসা রেখেছিল। আমি নেতা-কর্মীদের নিয়ে ভোটে লড়াই করেছি।
গত লোকসভা ভোটে ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুভাষ সরকার ৮২৩০৭টি ভোট পেয়েছিলেন। এবার বিজেপি সাকুল্যে ৬৪৬৩৭টি ভোট পায়। ২০২১ সালের বিধানসভা ও গত লোকসভা নির্বাচনে তালডাংরা কেন্দ্রে তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি-র কমবেশি হাজার দশেক ভোটের ব্যবধান ছিল। এবার তা ৩৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ফলে মার্জিন একলপ্তে প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বিষয়টি বিজেপি নেতৃত্বকে ভাবিয়ে তুলেছে। পরাজয়ের ধাক্কা সামলে সবে বিজেপি নেতারা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। তারইমধ্যে জেলাস্তরের নেতা বিস্ফোরক মন্তব্য করায় পদ্ম শিবির টলে গিয়েছে। আগামী দিনে ‘খেলা’ অনেক বাকি রয়েছে বলে ওই বিক্ষুব্ধ নেতা ইঙ্গিত দিয়েছেন।



