Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘রূপশ্রী’ তদন্তে মেলেনি কিছুই, ধন্দে রয়েছে নলহাটি ব্লক প্রশাসন

‘রূপশ্রী’ তদন্তে মেলেনি কিছুই, ধন্দে রয়েছে নলহাটি ব্লক প্রশাসন
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিবাহিত হয়েও ‘অবিবাহিত সার্টিফিকেট’ কেন তুলেছেন?  কারণ, যাঁরা সার্টিফিকেট তুলেছেন, তাঁরা কেউই রূপশ্রী প্রকল্পে আবেদন করেননি। টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট পাওয়ার বিষয়টিও কেউ স্বীকার করেনি। স্বভাবতই সার্টিফিকেট কাণ্ডে তদন্তে নেমে ধন্দে নলহাটি ২ ব্লক প্রশাসন। এমত অবস্থায় সার্টিফিকেটে সই থাকা গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান ও নির্মাণ সহায়ককে তলব করতে চলেছেন বিডিও। ডাকা হবে অভিযোগকারীদেরও।  
Advertisement
অর্থের বিনিময়ে রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দিতে বিবাহিত মহিলাদের অবিবাহিত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছে। নলহাটি ২ ব্লকের ভদ্রপুর ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে প্রমাণ সহ জেলা প্রশাসনের সর্বস্তরে অভিযোগ জানান মোস্তফাডাঙাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। অভিযোগ পত্রের সঙ্গে তাঁরা বেশ কয়েকজন মহিলার অবিবাহিত শংসাপত্র ও তাঁদের বিয়ের রেজিস্ট্রি কাগজের জেরক্স জমা দেন। শংসাপত্রগুলিতে গ্রামের সদস্য, প্রধান ও নির্মাণ সহায়কের সিল সই রয়েছে। যদিও প্রধান তুহিনা বিবি দাবি করেন, তাঁর সই সিল নকল করা হয়েছে। অন্যদিকে নির্মাণ সহায়ক কবিরুল মণ্ডল দাবি করেন, সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে পাঁচজন করে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জেনে অবিবাহিতার সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। 
এঘটনায় জেলাশাসক ব্লক প্রশাসনকে তদন্তের নির্দেশ দেন। গত শনিবার ব্লকের লোকজন গ্রামে এসে সেই সমস্ত মহিলার বাড়ি বাড়ি ঘুরে তদন্ত শুরু করেন। যদিও সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতারা থাকায় তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিযোগকারীরা। যদিও এদিন বিডিও রজতরঞ্জন দাস বলেন, তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে। অভিযোগে যে সমস্ত মহিলার নাম ছিল, তাঁদের বাড়ি যাওয়া হয়েছিল। তাঁরা কেউই টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট পাওয়ার কথা স্বীকার করেননি। তাছাড়া ওই মহিলাদের কেউই রূপশ্রী প্রকল্পের সুবিধা চেয়ে আবেদন করেননি। টাকা পাওয়া তো দূরের কথা। যদিও অভিযোগকারীরা বলেন, তদন্ত কমিটি যদি তৃণমূল নেতাদের নিয়ে মহিলাদের বাড়ি যান, তাহলে কার সাধ্য আছে তাঁদের সামনে টাকা নেওয়ার অভিযোগ জানাবেন। প্রশাসনের উচিত ছিল, ওই মহিলাদের ব্লক অফিসে ডেকে তদন্ত করা। 
তাহলে বিবাহিত হয়েও অবিবাহিতার সার্টিফিকেটগুলি কেন তুলেছেন তাঁরা? উঠেছে প্রশ্ন? আর কেনই বা সেই সমস্ত সার্টিফিকেট দেওয়া হল? বিডিও বলেন, সেটাই জানার বিষয় আছে। সার্টিফিকেটে সই যাঁদের রয়েছে, তাঁদেরও ডাকা হবে। এরপরই অভিযোগকারীদের বক্তব্য শুনবে তদন্ত কমিটি। 
যদিও অভিযোগকারীদের দাবি, শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চলছে। আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। 
সম্পর্কিত সংবাদ