নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এ যেন ‘পুষ্পা’ সিনেমার বাস্তব চিত্র! মাছের ট্রের ভিতর গাঁজা পাচারের চেষ্টা হচ্ছিল। ট্রের একবারে নীচে রাখা ছিল প্লাস্টিকের প্যাকেটে মোড়া গাঁজা। পুলিস যাতে তার সন্ধান পায় তার জন্য বরফ বিছিয়ে উপরে রাখা হয়েছিল দু’-একটি মাছ। যদিও এত পরিকল্পনা সত্ত্বেও রেহাই মিলল না। রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড়ে লরি আটকাতেই পর্দা ফাঁস! উদ্ধার প্রায় দু’কুইন্টাল গাঁজা। শুক্রবার ভোরে রানিগঞ্জ থানার পাঞ্জাবি মোড়ের ওই ঘটনায় হতবাক সাধারণ মানুষ। বরফের জলে ধুয়ে যাচ্ছে রাস্তা। তারই মাঝে সারিবদ্ধভাবে প্যাকেটগুলি রাখছেন পুলিস আধিকারিকরা। ৩৯টি মাছের ট্রেতে গাঁজা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। প্রায় দু’কুইন্টাল গাঁজা বাজেয়াপ্ত হয়েছে। লরি চালক ও খালাসির দাবি, মেদিনীপুরের বেলদা থেকে বীরভূমের দুবরাজপুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এই বিশেষ মাছের ট্রেগুলি। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, মাছের ট্রের ভিতর গাঁজা পাচার হচ্ছিল। বেলদার দুই বাসিন্দা গ্রেপ্তার হয়েছে।
Advertisement
রানিগঞ্জের পাঞ্জাবি মোড় ফাঁড়ি এলাকা মাছের বড় আড়তও। ভোর থেকেই কর্মব্যস্ততা থাকে এলাকায়। এদিন ছিল ছট উৎসব। কাকভোর থেকেই মানুষের আনা গোনা। তারই মাঝে মাছের লরি ঘিরে পুলিসের তল্লাশি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে তথ্য ছিল মাছের ট্রে বোঝাই লরিতে বিপুল গাঁজা পাচার হবে। দক্ষিণ ভারত থেকে বহু মাছের গাড়ি শিল্পাঞ্চল হয়ে উত্তরবঙ্গ অভিমুখে যায়। প্রতিটি মাছের ট্রে তল্লাশি করে গাঁজা পাচার রোখা অসম্ভব। কমিশনারেটের দুঁদে গোয়েন্দারা সূত্র মারফত খবর নেয় কোন গাড়িতে এই গাঁজা পাচার হচ্ছে। ভোর ৪টের আগেই পাঞ্জাবিমোড় এলাকায় হাজির হয়ে যান সাদা পোশাকের গোয়েন্দা অফিসাররা। নির্দিষ্ট নম্বরের লরি আসতেই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। প্রথমে ভিরমি খেয়েছিলেন পুলিস অফিসাররা। উপরের কয়েকটি ট্রেতে বরফ বোঝাই দক্ষিণের মাছ। তাহলে কি সোর্স ইনর্ফমেশন ভুল ছিল! এই সন্দেহ যখন পুলিস মহলে দানা বাঁধছে তখনই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে! দেখা গেল পরের ট্রেগুলিতেও বরফ রয়েছে, দু’-এক পিস মাছও আছে তারপরই রয়েছে আসল সামগ্রী। বাদামি রঙের প্যাকেটে একাধিক প্লাস্টিক দিয়ে মোড়া গাঁজা। নিয়ম অনুযায়ী গাঁজা বাজেয়াপ্তর জন্য প্রয়োজন হয় একজন ম্যাজিস্ট্রেটের। সেই কারণে উপস্থিত হয়েছিলেন রানিগঞ্জের বিডিও শুভদীপ গোস্বামী। একের পর এক ট্রে থেকে চার কেজি, সাড়ে চার কেজি ওজনের গাঁজার প্যাকেটগুলি বের হতে থাকে। ৩৯টি ট্রে থেকে প্রায় দু’কুইন্টাল গাঁজা বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী আসিফ জাভেদ বলেন, ২০ বছর ধরে মাছ ব্যবসা করছি বাইরে থেকে দেখে কারও বোঝার সাধ্য ছিল না মাছ নয়, ভিতরে গাঁজা আছে।
পুলিস প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে, লরিটি পূর্ব মেদিনীপুরের বেলদা থেকে এলেও এই গাঁজা এসেছে ওড়িশা থেকে। অন্ধপ্রদেশ থেকে ওড়িশা হয়েই দক্ষিণ ভারতের মাছ বাংলায় ঢোকে। এবার সেই মাছের লরিগুলিকেই টার্গেট করেছে গাঁজা পাচারকারিরা। পুলিস খতিয়ে দেখছে আদৌ এগুলির লক্ষ্য ছিল বীরভূম নাকি সেখান থেকে বাংলাদেশ!-নিজস্ব চিত্র
পুলিস প্রাথমিক তদন্তে মনে করছে, লরিটি পূর্ব মেদিনীপুরের বেলদা থেকে এলেও এই গাঁজা এসেছে ওড়িশা থেকে। অন্ধপ্রদেশ থেকে ওড়িশা হয়েই দক্ষিণ ভারতের মাছ বাংলায় ঢোকে। এবার সেই মাছের লরিগুলিকেই টার্গেট করেছে গাঁজা পাচারকারিরা। পুলিস খতিয়ে দেখছে আদৌ এগুলির লক্ষ্য ছিল বীরভূম নাকি সেখান থেকে বাংলাদেশ!-নিজস্ব চিত্র



