Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘প্রভাবশালী’ বোঝাতে ফটোশপে কেরামতি, হেভিওয়েট নেতাদের অনুষ্ঠানে নিজেদের ছবি বসিয়েছিল প্রতারকরা

‘প্রভাবশালী’ বোঝাতে ফটোশপে কেরামতি, হেভিওয়েট নেতাদের অনুষ্ঠানে নিজেদের ছবি বসিয়েছিল প্রতারকরা
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ফটোশপে কাজ করেই প্রতারকরা ‘বাজিমাত’ করছে। হেভিওয়েট নেতাদের পারিবারিক অনুষ্ঠানে নিজের ছবি বসিয়ে তারা নেতাদের প্রভাবিত করছে। নিজের জন্মদিনে হেভিওয়েট কোনও নেতা তাকে কেক খাওয়াচ্ছে। এমনও ছবি তারা ফটোশপের মাধ্যমে তৈরি করে রেখেছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতায় এমএলএ হস্টেল থেকে ধৃত শুধু ওই তিন প্রতারক নয়, চক্রে আরও সাত-আটজন রয়েছে। তারা নিজেদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলেও প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে তোলা ছবি আপলোড করেছে। তা দেখে অনেক নেতারই মাথা ঘুরে গিয়েছে। প্রতারকদের একটি গ্যাং বেশ কিছুদিন ধরে বর্ধমানের একটি হোটেলে যাতায়াত শুরু করেছিল। সেখানে তাদের সঙ্গে দেখা করার জন্য নেতাদের লাইন পড়ে গিয়েছিল। প্রতারকরা কাউকে ব্লক সভাপতি আবার কাউকে শাখা সংগঠনের সভাপতি পদে বসানোর টোপ দিয়েছিল। আবার অনেককে প্রশাসনিক পদে বসানোর টোপ দিয়েও তারা ‘দক্ষিণা’ নিয়েছে। তারা কালনা ছাড়াও আরও কয়েকটি পুরসভার চেয়ারম্যানকে টাকা চেয়ে ফোন করেছিল। একটি অডিও ক্লিপে অন্য এক চেয়ারম্যানকে প্রতারকরা বলছে, ‘আপনার ২০লক্ষ লাগবে। তিন লক্ষ টাকা অগ্রিম দিতে হবে। তার রসিদ দেওয়া হবে। বাকি টাকা চেকে দিতে হবে। এই টাকা দিলে শহরের সমস্ত ক্ষমতা আপনার হাতে দেওয়া হবে।’ দলের দু’জন প্রভাবশালীর সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও তারা দেয়। ওই ক্লিপেই প্রতারকদের বলতে শোনা যাচ্ছে, অন্য জেলার দু’টি পুরসভার চেয়ারম্যানও তাদের সঙ্গে দেখা করতে আসবে। 
Advertisement
এক নেতা বলেন, যেসব নেতার কলকাতার ‘নেটওয়ার্ক’ মজবুত নয়, তাদেরকেই তারা টার্গেট করেছিল। বর্ধমান শহরের তিনজন এজেন্টকে তারা কাজে লাগিয়েছিল। তারাই নেতাদের মগজধোলাই করে প্রতারকদের কাছে নিয়ে যেত। ওই প্রতারকরা ভালোভাবেই ‘হোমওয়ার্ক’  সেরে আসত। কোন নেতার কী দুর্বলতা রয়েছে সেই তথ্য তাদের কাছে ছিল। তথ্য জোগাড় করার জন্য তারা বর্ধমান শহরের কয়েকজন এজেন্টকে কাজে লাগিয়েছিল। আর এক তৃণমূল নেতা বলেন, প্রতারকদের চালচলন অন্যরকম। তাদের কথাতেই নাকি প্রশাসন চলে। এছাড়া তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই সাংগঠনিক রদবদল করা হবে বলে আশ্বাস দিত। এছাড়া জেলায় প্রশাসনিক পদে কারা বসবে সেটাও তারাই ঠিক করবে বলে দাবি করেছিল। নেতাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করার জন্য ফটোশপে কাজ করা ছবিই তাদের মূল হাতিয়ার ছিল। তা দেখে অনেক দাপুটে নেতারও চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিল। 
তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, প্রতারকরা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছে। পুরো গ্যাংটি গ্রেপ্তার হলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। গ্রেপ্তার না হওয়া কয়েকজন প্রতারক এখনও নিজেদের প্রভাব দেখানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির ছবি পোস্ট করে বোঝাতে চাইছে তারা প্রতারক নয়। তারাই সংগঠনের হর্তাকর্তা।
সম্পর্কিত সংবাদ