Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘পুলিসকে ভয় নয়’— বেগুনকোদরে ক্যাম্পের উদ্বোধন করে বার্তা এসপির

‘পুলিসকে ভয় নয়’— বেগুনকোদরে ক্যাম্পের উদ্বোধন করে বার্তা এসপির
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: ভৌগলিক অবস্থানের নিরিখে গুরুত্ব কোনও অংশেই কম নয়। পর্যটকদের আনাগোনা তো লেগেই রয়েছে বছরভর। তাই বেগুনকোদরে একটা পুলিস ক্যাম্প হোক, এই দাবি দীর্ঘদিন থেকেই তুলে আসছিলেন স্থানীয় মানুষজন। জেলা পুলিসও বিষয়টি অনুভব করছিল। গত বছর রাশের সময় বেগুনকোদরে গিয়েছিলেন জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একটি পুলিস ক্যাম্পের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। এক বছর পার হওয়ার আগেই নিজের কথা রাখলেন জেলার পুলিস সুপার।
Advertisement
বৃহস্পতিবার বেগুনকোদরে পুলিস ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন জেলার পুলিস সুপার। অনুষ্ঠানে পুলিসের পদস্থ কর্তারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাঘমুণ্ডির বিধায়ক সুশান্ত মাহাত, ঝালদা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দীপক সিং সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিরা। পুলিস সুপার বলেন, কোটশিলা থানা এলাকার মধ্যে বেগুনকোদর এমন একটা জায়গা, যার গুরুত্ব কোটশিলার থেকে কোনও অংশে কম নয়। অযোধ্যা পাহাড়ের অন্যতম প্রবেশপথ এই বেগুনকোদর। বছরভর পর্যটকদের আনাগোনা লেগে রয়েছে। তাই আজ থেকে ১০বছর আগে যখন এই জেলায় আমি কর্মরত ছিলাম, তখনই এখানে একটি ক্যাম্পের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। বাসিন্দাদেরও দাবি ছিল। অবশেষে তা পূরণ করতে পারলাম। 
সূত্রের খবর, এবার থেকে ক্যাম্পে দু’জন পুলিস অফিসার ও ছ’জন কনস্টেবেল থাকবেন। সমস্ত অভিযোগ এখানেই জমা নেওয়া হবে। স্থানীয়দের বাসিন্দাদের সাক্ষী রেখে পুলিস সুপার বলেন, ফাঁড়ির জন্য সরকারের অনুমোদন লাগে। ফাঁড়িতে জেনারেল ডায়েরি হয়। এফআইআর করতে গেলে থানায় যেতে হয়। কিন্তু, আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এবার থেকে এই ক্যাম্পে জেনারেল ডায়েরি তো করা যাবেই, এফআইআর করতে গেলেও আর কোটশিলা থানায় যেতে হবে না। আপনাদের অভিযোগপত্র আমরা ক্যাম্পেই জমা নেব। এখান থেকে পুলিসকর্মীরা সেই অভিযোগপত্র নিয়ে কোটশিলা থানায় গিয়ে যে টেকনিক্যাল কাজটা আছে, সেটা করবে। 
একইসঙ্গে দুয়ারে রেশন, দুয়ারে সরকারে ধাঁচে ‘দুয়ারে পুলিস’ কর্মসূচিরও প্রয়োজনীয়তার কথা জানান পুলিস সুপার। তিনি বলেন, আগে পুলিসের নাম করে সন্তানকে ভয় দেখানো হতো। শিশুরা না খেলে বলা হতো, পুলিস চলে আসবে! কিন্তু, আমরা এমনটা চাই না। পুলিস আর পাবলিকের সঙ্গে কোনও ভয়ের সম্পর্ক নয়, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। 
এদিন মাওবাদী সময়ের স্মৃতিচারণ করতেও দেখা যায় পুলিস সুপারকে। তিনি শুনিয়েছেন, এক সময় এইসব এলাকায় অনুষ্ঠান করতে গেলে ভাবতে হতো কোথায় ল্যান্ডলাইন ব্লাস্ট হবে। কিন্তু, এখন আমরা পুরুলিয়াকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে পেরেছি। পুলিস কর্মীদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষও পর্দার আড়ালে থেকে আমাদের অনেক তথ্য দিয়ে গিয়েছে। এই ক্যাম্প তাঁদের উদ্দেশ্য করেই।
সম্পর্কিত সংবাদ