সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: ময়নাগুড়ি ফুটবল ময়দানে এবার জেলার ‘বই উত্সব’। সরকারি এই বইমেলায় স্টল দিয়ে অভিভুত কলকাতার প্রকাশনী সংস্থাগুলি। মোবাইল-পিডিএফ-এর যুগে বইমেলায় পাঠকের ভিড় চন্দ্রমণি মজুমদার, জয়ন্ত নস্করদের মত স্টলের প্রতিনিধিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। মঙ্গলবার মেলার দ্বিতীয় দিনে সেই কথাই উঠে এল তাঁদের মুখে- এ যেন অন্য বইমেলা দেখছি। বইয়ের প্রতি এখনও যে মানুষের ভালোবাসা রয়েছে, সেটা দেখে ভালো লাগছে। পাঠকরা ফিরবেন, সেই আশায় জেলার বিভিন্ন গ্রন্থাগারের কর্মীরাও বই কিনে নিয়ে গেলেন।
জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগের উদ্যোগে সোমবার থেকে ময়নাগুড়ি ফুটবল ময়দানে শুরু হয়েছে জেলা বইমেলা। চলবে ২২তারিখ পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর একটা থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে প্রবেশদ্বার। রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রথম দিনের মতো পাঠকদের উত্সাহ দেখা গেল দ্বিতীয় দিনে। বিভিন্ন স্টলগুলিতে দুপুর থেকেই ছিল ভিড়। জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন গ্রন্থাগার থেকে এদিন কর্মীরা বই কিনে নিয়ে যান। ময়নাগুড়ির রাধিকা লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান কৃষ্ণকান্ত রায় বলেন, আমরা কুড়ি হাজার টাকার বই কিনতে পারব। গ্রামীণ গ্রন্থাগারগুলি ১৫ হাজার টাকার বই কিনতে পারবে। জেলা গ্রন্থাগার ৪০ হাজার টাকার বই কিনতে পারবে। জলপাইগুড়ির এক গ্রন্থাগারের সভাপতি প্রিয়াঙ্কা ঘোষসাহা বলেন, বেশ ভালই ভিড় রয়েছে। আমরা বই কিনতে এসেছি। আমরা চাই, মানুষ বই পড়ুক। বই পড়লে জ্ঞ্যানের প্রসার বাড়বে। কারণ, বইয়ের আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। মেটেলি গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিক নিরঞ্জন রায় বলেন, আমরা বিভিন্ন রকমের বই কিনছি। এখানে প্রচুর স্টল রয়েছে। প্রচুর বই রয়েছে। আমরা ঘুরে ঘুরে বই কিনছি। শিশুদের থেকে শুরু করে সবরকম বই কেনা হয়েছে।
মানবেন্দ্র রায় নামে এক পাঠক বলেন, বইমেলা প্রত্যেকটি ব্লকে হওয়া উচিত। বইয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা আরও বৃদ্ধি পাক, সেটাই চাইছি। মেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সম্পাদক মনোজ রায় বলেন, ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি দেখে ভালো লাগছে। ব্যবসায়ীরা অনেক দূর থেকে এসেছেন। তারা এখানে থাকবেন। কেনাবেচা ভালো হলে আমাদেরও ভালো লাগবে। আরএক ব্যবসায়ী জয়ন্ত নস্কর বলেন, সোমবার দোকান গোছাতে সময় লেগে গিয়েছিল। তবে মঙ্গলবার দেখছি, ভালো ভিড় রয়েছে। আশা করছি পাঠকদের কাছে জেলা বইমেলা গুরুত্ব পাবে।