Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘ফাঁদে পড়েছি’, স্ত্রীকে মেসেজ পাঠিয়ে ট্রেন থেকে নিখোঁজ যুবক 

‘ফাঁদে পড়েছি’, স্ত্রীকে মেসেজ পাঠিয়ে ট্রেন থেকে নিখোঁজ যুবক 
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মালদহ থেকে রাতে নির্দিষ্ট সময়েই ট্রেনে চেপেছিলেন শিলিগুড়ির এক মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ। স্ত্রীকে মোবাইলে মেসেজ করেছিলেন ‘ট্রেনে উঠেছি, কিন্তু একটা ট্র্যাপে পড়েছি। খুলে সব বলতে পারছি না। কোনওরকমে মেসেজ করলাম। এখান থেকে বেরিয়ে ফোন করব।’ আর এরপর থেকেই মোবাইল ফোন স্যুইচঅফ শিলিগুড়ি শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাকিমপাড়ার বাসিন্দা এমআর জয় অধিকারীর। যা নিয়ে শিলিগুড়ি শহরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সকাল থেকে চর্চা চলছে। এমআরের ছবি দিয়ে পোস্ট করেছেন তাঁর সহকর্মীরা। 
Advertisement
ওই যুবকের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মালদহে কাজ সেরে ২৪ ডিসেম্বর রাতে সরাইঘাট এক্সপ্রেস চাপার কথা ছিল তাঁর। মালদহ টাউন স্টেশনে আসা সরাইঘাট এক্সপ্রেস ট্রেনেও চাপেন সাড়ে ৯টা নাগাদ। রাত পৌনে ১২টা নাগাদ স্ত্রীকে ফাঁদে পড়ে যাওয়ার বার্তা দেন। এরপরেই মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। রাতে স্বামীর মোবাইল থেকে মেসেজ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জয়ের স্ত্রী শ্রাবণী অধিকারী স্বামীর সহকর্মীদের সঙ্গে কথা করেন। এরপরেই নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের জিআরপির সঙ্গে যোগাযোগ করেন জয় অধিকারীর কয়েকজন সহকর্মী। রাত সোয়া ১টা নাগাদ সরাইঘাট এক্সপ্রেস নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে এলেও তাঁকে খুঁজে পাননি সহকর্মীরা। জিআরপিও পায়নি। 
পরবর্তীতে ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ে স্টেশন ছেড়ে চলে যায়। জয় অধিকারীর ছবি দিয়ে পরবর্তী স্টেশন সহ কোচবিহার স্টেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এনজেপি স্টেশনের জিআরপি। কোচবিহার স্টেশনেও পৌঁছন জয় অধিকারীর সেখানকার সহকর্মীরা। সেখানেও ট্রেনে তন্নতন্ন করে খোঁজা হলেও খোঁজ পাওয়া যায়নি জয়ের। তাঁর স্ত্রী শ্রাবণী বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত স্বামীর খোঁজে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনও খোঁজ পাননি বলে জানান। এনজেপি জিআরপিতে লিখিতভাবে গোটা বিষয়টি জানিয়ে অভিযোগ করেছেন জয়ের স্ত্রী। যদিও এই বিষয়ে জিআরপির সুপারিন্টেন্ডেন্ট কুনুয়ার ভূষণ সিং বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। জিআরপির এনজেপির আধিকারিকেরা সরাসরি কিছু বলতে চাননি। তাঁরা জানিয়েছেন, মালদহ টাউন স্টেশনে ট্রেনে ওই ব্যক্তি উঠেছিল কি না খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। 
জয়বাবুর স্ত্রী বলেন, স্বামীর শেষ মেসেজটি পাওয়ার পর থেকে দুশ্চিন্তায় আছি। জয় অধিকারীর সহকর্মী অমিত চক্রবর্তী বলেন, দিনভর খোঁজ করেও সহকর্মী জয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের মতো করে খোঁজ নিচ্ছি। এদিকে, শিলিগুড়ি পুরসভার সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সুজয় ঘটক বলেন, জয় অধিকারীকে চিনি। শুনেছি, ছেলেটি মালদহ থেকে ফেরার পথে নিখোঁজ হয়েছে। ওঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ