Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘নিষিদ্ধ’ স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল অন্য রোগীদেরও

‘নিষিদ্ধ’ স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল অন্য রোগীদেরও
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: গত বছর মে মাসে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অস্বাভাবিক হারে প্রসূতি মৃত্যুর  কারণ অনুসন্ধানে রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইনের ব্যবহার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। তারপরই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের প্রসূতি বিভাগ সেই স্যালাইনের ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপরেও মেডিক্যালে বিতর্কিত সেই স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। অন্য রোগীদের চিকিৎসার খাতিরে তা ব্যবহারও করা হয়েছে বলে মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে। 
Advertisement
সম্প্রতি মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এক প্রসূতির মৃত্যুতে বিষাক্ত স্যালাইন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সেখানেও ওই রিঙ্গার ল্যাকটেটের ব্যবহার ধরা পড়ে। ঘটনার তদন্তে রাজ্যের সব সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই স্যালাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। ওই স্যালাইন প্রস্তুতকারী সংস্থার মোট ১৪টি স্যালাইন, ইঞ্জেকশন, ওষুধ নিষিদ্ধ করে স্বাস্থ্য ভবন তদন্তের জন্য জমা দেওয়ার  নির্দেশ দিয়েছে। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এই নির্দেশ আসার আগে পর্যন্ত ন’হাজারের কিছু বেশি বোতল রিঙ্গার ল্যাকটেট স্যালাইন মজুত ছিল। প্রসূতি বিভাগে ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার পরেও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে সেই বিতর্কিত স্যালাইন কেন নিয়মিত সরবরাহ করা হতো? তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, প্রসূতি বিভাগে সেই স্যালাইনের ব্যবহার করা বন্ধ হলেও অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসায় সেই স্যালাইন ব্যবহার চালু ছিল। কিন্তু প্রসূতি মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত স্যালাইন অন্য রোগীদের চিকিৎসায় ঝুঁকিপূর্ণ নয়, তা কীভাবে নির্ণয় হয়েছিল? এই প্রশ্নের মুখে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, গত বছর মে মাসে ১৫ জন প্রসূতি মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে বেশ কয়েকটি দিক চিহ্নিত হয়েছিল। তাতে ওই স্যালাইন বন্ধ করার পর প্রসূতির মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। তার ভিত্তিতেই আমরা ওই স্যালাইনের ব্যবহার বন্ধ করেছিলাম। স্যালাইনের নমুনা সহ আমাদের এই পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট আকারে স্বাস্থ্য ভবনে পাঠানো হয়েছিল।  কিন্তু সেই নমুনা পরীক্ষার কোনও নেতিবাচক রিপোর্ট বা নির্দেশ আমাদের কাছে আসেনি। রিঙ্গার ল্যাকটেটের সরবরাহও বন্ধ করা হয়নি। তাই সাধারণ রোগীদের চিকিৎসায় ওই স্যালাইন ব্যবহার করা হয়েছে। তাতে  কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার রিপোর্ট আমরা পাইনি। 
মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক বলেন, সাধারণ রোগের চিকিৎসায় রিঙ্গার ল্যাকটেটের ব্যবহার খুব কম হয়ে থাকে। তাই ওই স্যালাইনের ব্যবহারে বিক্ষিপ্তভাবে রোগীর মৃত্যু বা রোগীর অবস্থার জটিল হয়নি তার নিশ্চয়তা কোথায়? সাধারণ রোগীদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে সেভাবে কোনও তদন্ত বা পর্যালোচনা করা হয়নি। যদি হতো তাহলে মেদিনীপুর কাণ্ডের আগেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসতে পারত। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে এক মাসে ১৫ জন প্রসূতির মৃত্যু সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পরও এই স্যালাইন নিয়ে শীর্ষস্তর থেকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সম্পর্কিত সংবাদ