Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘নব্য ভোটার সম্পর্ক অভিযানে’ এক ঢিলে দুই পাখি মারছে তৃণমূল 

‘নব্য ভোটার সম্পর্ক অভিযানে’ এক ঢিলে দুই পাখি মারছে তৃণমূল 
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: একদিকে, ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখে ত্রুটিমুক্ত করা। অন্যদিকে, মিশন ছাব্বিশের জমি তৈরিতে নিবিড়ি জনসংযোগ। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক টোটকায় দুই পাখি মারতে এখন নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। 
Advertisement
রবিবার ছিল ছুটি। পুরোদস্তুর দিনটিকে কাজে লাগালেন পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। একাধারে তিনি আবার পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়াকও। সকালে তিনি প্রথম যান খোট্টাডিহি গ্রামে। উদ্দেশ্য পাড়া বৈঠক। সেই মতো মণ্ডলপাড়ায় একটি খাটিয়া পেতে বসেন তিনি। খবর চাউর হতেই ভিড় জমতে থাকে। বিধায়ককে কাছে পেয়ে যে যাঁর মতো সমস্যার কথা তুলে ধরেন। মনযোগ দিয়ে সব সমস্যা শোনেন নরেন্দ্রনাথবাবু। তার ফাঁকেই ভোটার তালিকাও খতিয়ে দেখেন। দেখতে দেখতে হাঁক পাড়েন নিমাইকে। মানে নিমাই মণ্ডলকে। বলেন, ‘নিমাই তোমার  ছেলে তো বেশ বড় হয়ে গিয়েছে। ভোটারও হয়ে গিয়েছে। কী করছে এখন?’ নিমাইও সুযোগ পেয়ে নিজের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। 
খট্টাডিহি গ্রামটি হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ে। নরেন্দ্রনাথবাবু এদিন শুধু এই গ্রামেই তাঁর সফর সীমাবদ্ধ রাখেননি। চষে বেড়িয়েছেন সুখ বাজার সহ পাশাপাশি আরও কয়েকটি গ্রাম। সব খানেতেই ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখার সঙ্গে সেরেছেন নিবিড়ি জনসংযোগ। ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, অথচ গ্রামে নেই, সেই ‘নিরুদ্দেশ’ নাগরিকের উপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় কর্মীদের। 
এদিকে, পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারও বসে নেই। নিজের এলাকার প্রতিটি পোলিং এজেন্ট ও বুথ সভাপতিদের নিয়ে বৈঠক করে ভোকাল টনিক দিচ্ছেন। নতুন ভোটারদের সঙ্গে আত্মীক সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। কর্মসূচির প্রতীকী নাম ‘নব্য ভোটার সম্পর্ক অভিযান’। অভিযানে নেমে নতুন ভোটারের চাহিদাও লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। কোনও ভোটারকে এলাকায় গিয়ে না পাওয়া গেলে তাঁর নাম কেন উঠল, তা নিয়ে ময়নাতদন্ত শুরু হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কর্মসূচি নিবিড় ভাবে প্রতিটি গ্রাম সংসদে হলে অ্যাডভানটেজ পেয়ে যাবে শাসক দল। নরেন্দ্রনাথবাবু বলছিলেন, ‘পঞ্চায়েতস্তর থেকে জনপ্রতিনিধি হয়ে উঠে এসেছি। সেই সময়ে যারা প্রাথমিক স্কুলে পড়ত আজ তাঁরা নতুন ভোটার। তাঁদের সঙ্গে  আলাপ করে ভালো লাগছে। এছাড়া দেখা হচ্ছে কোনও ভুয়ো নাম তালিকায় উঠেছে কিনা।’ 
পঞ্চায়েতমন্ত্রীর কথায়, ‘মনে রাখবেন এবার যাঁরা সাবালক, সাবালিকা হয়েছে তাঁরা কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর কন্যাশ্রী, সবুজসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা তাঁরা পেতে পারেন তাও বোঝানো হচ্ছে। প্রথমে দুর্গাপুরে বুথ স্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে পরে কাঁকসায় আমাদের দলীয় নেতৃত্বর সঙ্গে বৈঠক করেছি। সামনের সপ্তাহে আমি নিজেই এলাকায় যাব।’ প্রদীপবাবু মনে করিয়ে দিয়েছেন, যে কোনও নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থীর কাছে ভোটার তালিকা যেন পরীক্ষার সিলেবাস। নিজের এলাকার ভোটারদের সঙ্গে যে যত পরিচিত হয়ে মন জয় করতে পারবেন, তাঁর জয়ের নিশ্চয়তা ততটাই বেশি। ভোটের আগে সব দলই ভোটার তালিকা ধরে জনসংযোগে জোর দেয়। তৃণমূল কিন্তু বিধানসভা ভোটের এক বছরের বেশি সময় আগে থেকে সেই কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ল। এখনও পর্যন্ত কোনও কাউন্টার কর্মসূচি এখনও নিতে পারেনি বিজেপি। যদিও বিজেপির বর্ধমান দুর্গাপুর সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিজিৎ দত্ত বলেন, ‘তৃণমূল অসাধু প্রশাসনিক কর্তাদের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের নাম বাংলার ভোটার তালিকায় ঢুকিয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা তা ধরে ফেলেছে। এখন সেদিক থেকে দৃষ্টি ঘোরাতেই এই সব কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।’ 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ