Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘মামি ডাক আর শুনতে পাব না’

‘মামি ডাক আর শুনতে পাব না’
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সুনীতা সাহা (প্রত্যক্ষদর্শী): শিবরাত্রির উপবাস করেছি। মহাদেবের মাথায় জল ঢালার আগে স্নান করতে ফেরিঘাটে এসেছিলাম। দু’টি তরতাজা প্রাণ জলে তলিয়ে গেল। সেই দৃশ্য নিজের চোখে দেখলাম। ওদের জন্য কিচ্ছু করতে পারলাম না। ছেলে দু’টিকে ওইভাবে তলিয়ে যেতে দেখে আমার হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে যায়। ছোট থেকে অর্ঘ্যকে দেখেছি। বাঁচাতে পারলাম না। কেউই ওদের জল থেকে তুলে আনল না।
Advertisement
দাঁইহাট শহরে আমার বাড়ির পাশেই সদ্য নিখোঁজ হওয়া অর্ঘ্য সাহার আত্মীয়ের বাড়ি। সেই সূত্রে ছোট থেকেই ওর সঙ্গে আমার পরিচয় ছিল। বুধবার ঘাটে এসে দেখি, অর্ঘ্য ও তার বন্ধু সুমন সাহা স্নান করতে এসেছে। মাটিয়ারি ফেরিঘাটে স্নানের ঘাট নেই। নদীর পাড়ের মাটি ভাঙা। সেটি পেরিয়েই আমাদের স্নান করতে হয়। ওরাও এদিন ওভাবেই স্নান করতে নেমেছিল। স্নানের আগে অর্ঘ্য আমার সঙ্গে কথাও বলে। তারপর একটি বড় নৌকো আসতেই দেখলাম, ওরা দু’জনই তলিয়ে যাচ্ছে। অর্ঘ্য ‘বাঁচাও, বাঁচাও’ বলে চিৎকার করল। দু’বার ওর হাত দু’টো দেখলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম, ওরা দুই বন্ধু মিলে মজা করছে। তারপর দেখি, সত্যিই ওরা জলে তলিয়ে গেল। আমি ছুটে গিয়ে ফেরিঘাটের সবাইকে ওদের বাঁচানোর জন্য আকুতি করি। কিন্তু ওদের বাঁচাতে কেউই এগিয়ে এল না।
শিবরাত্রির দিন এভাবে ছেলে দু’টি চলে গেল। ভাবলেই বুক কেঁপে উঠছে। বাড়িতে ঘুমোতে পারব না। ওরা নিজেদের বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করছে, সেই দৃশ্য চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছে। অর্ঘ্য আমাকে ‘মামি’ বলে ডাকত। আর সেই ডাক শুনতে পাব না। খুবই ভালো ছেলে ছিল ওরা। এদিন প্রশাসন নজরদারি বাড়ালে, হয়তো ছেলে দু’টিকে এভাবে অকালে চলে যেতে হতো না। আসলে সবই নিয়তি। ওদের কপালে যে এরকম লেখা ছিল, তা আর কে জানত।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ