Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘কর’ খেলাপিতে অভিযুক্ত নকশালবাড়ির কংগ্রেস নেতা, বকেয়া পড়ে ২৪ লক্ষ টাকা

‘কর’ খেলাপিতে অভিযুক্ত নকশালবাড়ির কংগ্রেস নেতা, বকেয়া পড়ে ২৪ লক্ষ টাকা
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এবার ‘কর’ খেলাপিতে অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতার কাছে নোটিস পাঠাচ্ছে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ। অভিযুক্ত নেতা নকশালবাড়ির। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তিনি পরিষদের মার্কেট কমপ্লেক্সে স্টল কব্জায় রাখলেও ভাড়া দিচ্ছেন না। তাঁর বকেয়া ভাড়া বা করের পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা। শুধু ওই কংগ্রেস নেতা নন, আরও কয়েকজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযুক্তদের কাছ থেকে স্টল বাজেয়াপ্ত করতে পারে মহকুমা পরিষদ। এনিয়ে মহকুমায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 
Advertisement
মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মার্কেট কমপ্লেক্সের স্টল দখলে রাখলেও ওই কং নেতা সহ কয়েকজন ভাড়া দিচ্ছেন না। সেই ‘ডিফলটারদের’ কাছে একাধিকবার নোটিস পাঠিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এবার তাঁদের কাছে শেষ নোটিস পাঠানো হবে। নোটিস পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ভাড়া না মেটালে তাঁদের কাছ থেকে স্টল নিয়ে নেওয়া হবে। 
অভিযুক্ত কংগ্রেস নেতার নাম উজ্জ্বল দাস। তিনি কংগ্রেসের নকশালবাড়ি ব্লক কমিটির সম্পাদক। তিনি এলাকায় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন, দু’বছর আগে কয়েকজন মিলে মার্কেট কমপ্লেক্সে বেশকিছু স্টল নিয়েছিলাম। সেগুলি আমার নামে রয়েছে। ব্যবসা জমেনি বলে ভাড়া মেটানো সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে মহকুমা পরিষদকে আগে জানিয়েছিলাম। এবার নোটিস পাওয়ার পর জবাব দেব। 
শিলিগুড়ি মহকুমার গ্রামীণ এলাকায় দু’টি মার্কেট কমপ্লেক্স রয়েছে মহকুমা পরিষদের। যারমধ্যে নকশালবাড়ির মার্কেট কমপ্লেক্স অন্যতম। বহুতল কমপ্লেক্সের নীচতলা ও দোতলায় প্রচুর স্টল রয়েছে। কয়েকদিন আগে সমীক্ষা চালিয়ে পরিষদ কর বা ভাড়া খেলাপিতে অভিযুক্তদের নামের তালিকা প্রস্তুত করে। প্রশাসন সূত্রে খবর, গ্রামীণ এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ২০১৩ সালে মার্কেট কমপ্লেক্সটি চালু করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে সেখানকার ২৪টি স্টল থেকে মিলছে না ভাড়া। সেই তালিকায় কমপ্লেক্সের নীচতলায় চারটি এবং দোতলায় ২০টি স্টল রয়েছে। সেগুলির বকেয়া কর বা ভাড়ার পরিমাণ প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা। যারমধ্যে ২০টি স্টলই কং নেতার কব্জার। 
প্রশাসনের একা আধিকারিক বলেন, স্টলের ভাড়া থেকে মহকুমা পরিষদের নিজস্ব আয় বৃদ্ধি করাই মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি সেই অর্থ গ্রামীণ এলাকার পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করার কথা। কিন্তু বারবার বলার পরও কয়েকজন সেই কর প্রদান করছেন না। এবার তাঁরা সাড়া না দিলে তাঁদের কাছ থেকে স্টলগুলি সিজ করা হবে। সেগুলি নতুন করে টেন্ডার ডেকে বেকার যুবক-যুবতীদের ব্যবসার জন্য দেওয়া হবে। 
কংগ্রেস নেতা বিরুদ্ধে ‘কর’ খেলাপির অভিযোগ ঘিরে গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঘটনা থেকেই স্পষ্ট কংগ্রেস নেতারাও ‘সাধু’ নন। যদিও ওই কংগ্রেস নেতার বক্তব্য, এরসঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। ব্যবসার জন্য স্টলগুলি নিয়েছিলাম। মহকুমা পরিষদ কর্তৃপক্ষ চাইলে  ছেড়ে দেব।
সম্পর্কিত সংবাদ