সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথি-৩ ব্লকের কুমিরদায় কালীপুজোই সেরা উৎসব। কালীপুজোকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছেন কুমিরদা এলাকার মানুষজন। এই গ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৪টি পুজো হয়। বেশকিছু ক্লাব এবছর জাঁকজমক করেই পুজোর আয়োজন করেছে। তাদের মণ্ডপ ও প্রতিমা নজরকাড়া। কালীপুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবের চেহারা নিয়েছে গোটা গ্রাম। পুজো উপলক্ষ্যে উজ্জ্বল আলোকমালায় সেজে উঠেছে চারদিক। বসেছে মেলা, দোকানপাট। ক্লাবগুলি নানা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির আয়োজন করেছে। বৃহস্পতিবার শুধু সংশ্লিষ্ট ব্লক এলাকা নয়, দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ মণ্ডপ ও প্রতিমা দর্শনের জন্য ভিড় জমালেন। মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়ল ভিড়। প্রত্যন্ত গ্রামের মধ্যে এমন জমজমাট কালীপুজোর আয়োজন দর্শনার্থীদের নজর কেড়ে নিল।
Advertisement
গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় তিনটি পারিবারিক কালীপুজো হয়। পাশাপাশি দু’টি পুরনো মন্দিরে কালীপুজো হয়। আজ থেকে ৫০ বছর আগে গ্রামের শম্ভু বেরা কালীপুজো শুরু করেছিলেন। শম্ভু মারা যাওয়ার পর ‘শম্ভু স্মৃতি সঙ্ঘ’ গড়ে ওঠে। শম্ভু স্মৃতি সঙ্ঘ থেকে কয়েকজন ভাগ হয়ে ‘মাতৃমুক্ত দল’ নামে একটি সঙ্ঘ গড়ে তোলেন। ওই দু’টি ক্লাবের প্রতিমা নিরঞ্জন বেশ জৌলুস করেই হতো। তা দেখে আশপাশের দু’একটি ক্লাব পুজো শুরু করে। তারপর যত বছর এগিয়েছে, গ্রামে বেড়েছে পুজোর সংখ্যা। বাড়তে বাড়তে আজ পুজোর সংখ্যা ২৪টি। তারপর থেকে কুমিরদা ‘কালীর গ্রাম’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে। পুজোর বিসর্জনও জাঁকজমক করে হয়। কর্মকর্তারা বলেন, এখানকার পুজোয় কোনও চাঁদা তোলা হয় না। ক্লাবের সদস্যরাই চাঁদা দিয়ে পুজোর আয়োজন করেন। ক্লাবগুলির অনেক সদস্যই কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। পুজোর সময়ে তাঁরা বাড়ি ফেরেন। তাঁদের দেওয়া চাঁদাতেই পুজো হয়। ক্লাবগুলি পুলিস-প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই পুজো পরিচালনা করে।



