মাঠের ত্রিসীমানায় প্রতিপক্ষের দেখা নেই। অভিজ্ঞ ‘কোচ’ নিশ্চিত যে, এবারেও তাঁর দলের জয় দেখাটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। তবু অনুশীলনে একছটাক ঢিলে দিতে রাজি নন তিনি। বরং আরও বড় ব্যবধানে জয়ের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে দলকে মাঠে নামিয়ে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের অন্তত এক বছর আগে ভরা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করে দিলেন ‘আবার খেলা হবে... ২৬-এর সেই খেলার বল আর একটু জোরে মারতে হবে।’ যেকোনও খেলায় কোচের নিজস্ব রণকৌশল থাকে, ২৬-এর ‘খেলা’তেও আরও বড় জয়ের লক্ষ্যে দলের নেতা-কর্মীদের চার দফায় এগনোর রণকৌশল বাতলে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী। প্রথমত, ভুয়ো ভোটার ধরে ভোটার তালিকা ‘ক্লিন’ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়াতে বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। তৃতীয়ত, সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। চতুর্থত, বিজেপির হার নিশ্চিত করতে হবে। ২০২১-এ ২১৪টি আসন পেয়েছিল তৃণমূল। এবার ২১৫-র টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন দলের সুপ্রিমো। সেই ২০১১ সাল থেকে পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জিতে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে আর কোনও নির্বাচনেই হারেনি রাজ্যের শাসক দল। বরং দেখা গিয়েছে, বিধানসভা ও লোকসভায় তাদের আসন সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে। ৯৭টি সামাজিক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সর্বস্তরের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের যে যে কাজ করে চলেছে মমতার সরকার, তার অনেকগুলি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রশংসা আদায় করে নিয়েছে। তবু বিক্ষিপ্তভাবে হলেও হয়তো প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা আছে। দুর্নীতি, স্বজনপোষণের মতো বিচ্ছিন্ন অভিযোগে বারবার বিদ্ধ হতে হয়েছে শাসক দলকে। সন্দেহ নেই, এসব কারণে শহরের এক অংশের মানুষের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাবও রয়েছে। পোড়খাওয়া নেত্রী এসব জানেন। কথায় আছে, পচা শামুকেও পা কাটে। তাই আত্মতুষ্টি ঝেড়ে ফেলে ভোটের ময়দানে প্রথমে নেমে ‘খেলার’ প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, ‘অসৎ’ বা দুর্নীতিগ্রস্ত বা ‘দাদাগিরি’ করা কর্মীদের সবক শেখাতে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ওস্তাদের মার বোধহয় একেই বলে।
Advertisement
একটা সময়ে যারা এ রাজ্যে টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল, সেই বামেরা গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটের রাজনীতিতে প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। রাজ্য রাজনীতিতে চালু কথা হল, বামেদের মিছিল মিটিংয়ে যত লোক হয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় এদের যতটা সরব উপস্থিতি দেখা যায়, ভোটের বাক্সে তার ছিটেফোঁটাও প্রতিফলন ঘটে না। বামেদের সবচেয়ে বড় দল সিপিএমের মূল সমস্যা হল, এ রাজ্যে তাদের কে বড় শত্রু সেটা ঠিক করতেই মাস বছর গড়িয়ে যাচ্ছে। মুখে তারা বলে বিজেপি সাম্প্রদায়িক দল, দেশের পয়লা নম্বর শত্রু। অথচ রাজ্যে তাদের মূল আক্রমণের লক্ষ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল। সেই দ্বিচারিতার জেরে শূন্যতে এসে দাঁড়িয়েছে সিপিএম। একসময়ে গড়ে ৫০ শতাংশ ভোট এখন নেমে ৫ বা ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘু—অনেকেই তাদের বিশ্বাস করে না, ভরসা করছে না। রাজ্যে আর এক প্রান্তিক শক্তি কংগ্রেসের সঙ্গে সমঝোতা করেও তাদের কপাল খুলছে না। এই শনির দশা কাটাতে সিপিএমের সদ্য অনুষ্ঠেয় রাজ্য সম্মেলনের প্রদর্শনীতে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ছবি দেখা গিয়েছে। কে জানে, অদূরভবিষ্যতে হয়তো নারকেল ফাটিয়ে, ধূপধুনো জ্বালিয়ে পূজার্চনার মাধ্যমে কোনও সম্মেলনের উদ্বোধন হবে। সবই হল, যদি শূন্য থেকে এক হয়।
বিজ্ঞানের নিয়মে কোনও জায়গা খালি থাকে না। এ রাজ্যেও বামেদের শূন্যস্থান পূরণ করেছে বিজেপি। একসময়ে এ রাজ্যে যাদের প্রায় কোনও অস্তিত্ব ছিল না, তারাই এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল! গত প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটের অঙ্কে একটু একটু করে বাড়লেও এখনও অন্তত বাংলার অর্ধেক জেলায় তাদের কোনও সংগঠনই নেই। কিন্তু উপদলীয় কোঁদল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মোটামুটি সব দলকে তারা ছাপিয়ে গিয়েছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই হয়তো গত কয়েক মাস ধরে দলের রাজ্য সভাপতি চূড়ান্ত করতে পারছেন না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তবু রাজ্য দখলের খোয়াব দেখাচ্ছে পদ্মশিবির। গেরুয়া শিবিরের অঙ্ক, মহাকুম্ভের জনসমাগম ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের কারণে এ রাজ্যে তাদের হিন্দু ভোট বাড়বে। এর পাশাপাশি রাজ্যের শাসক দলের আশঙ্কা, অনলাইনে কারচুপি করে অন্য রাজ্যের নাগরিকদের এ রাজ্যে ভোটার বানিয়ে কাজ হাসিলের চেষ্টা করবে গেরুয়া শিবির। যেমনটা হয়েছে দিল্লি, মহারাষ্ট্রে বলে অভিযোগ। পদ্মবাহিনীর এমন কল্পিত রণকৌশল নিয়ে ২০২১-এ ‘আব কি বার ২০০- পার’ বলে তাদের ঝুলিতে এসেছিল ৭৭টি আসন। লোকসভাতে আসন নেমে দাঁড়ায় ১২তে। এসব করেই তারা রাজ্য দখলের স্বপ্ন দেখছে! তবে মমতার ভবিষ্যদ্বাণী মিললে শেষপর্যন্ত আবার বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে না তো?
বিজ্ঞানের নিয়মে কোনও জায়গা খালি থাকে না। এ রাজ্যেও বামেদের শূন্যস্থান পূরণ করেছে বিজেপি। একসময়ে এ রাজ্যে যাদের প্রায় কোনও অস্তিত্ব ছিল না, তারাই এখন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল! গত প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভোটের অঙ্কে একটু একটু করে বাড়লেও এখনও অন্তত বাংলার অর্ধেক জেলায় তাদের কোনও সংগঠনই নেই। কিন্তু উপদলীয় কোঁদল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে মোটামুটি সব দলকে তারা ছাপিয়ে গিয়েছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই হয়তো গত কয়েক মাস ধরে দলের রাজ্য সভাপতি চূড়ান্ত করতে পারছেন না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। তবু রাজ্য দখলের খোয়াব দেখাচ্ছে পদ্মশিবির। গেরুয়া শিবিরের অঙ্ক, মহাকুম্ভের জনসমাগম ও বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের কারণে এ রাজ্যে তাদের হিন্দু ভোট বাড়বে। এর পাশাপাশি রাজ্যের শাসক দলের আশঙ্কা, অনলাইনে কারচুপি করে অন্য রাজ্যের নাগরিকদের এ রাজ্যে ভোটার বানিয়ে কাজ হাসিলের চেষ্টা করবে গেরুয়া শিবির। যেমনটা হয়েছে দিল্লি, মহারাষ্ট্রে বলে অভিযোগ। পদ্মবাহিনীর এমন কল্পিত রণকৌশল নিয়ে ২০২১-এ ‘আব কি বার ২০০- পার’ বলে তাদের ঝুলিতে এসেছিল ৭৭টি আসন। লোকসভাতে আসন নেমে দাঁড়ায় ১২তে। এসব করেই তারা রাজ্য দখলের স্বপ্ন দেখছে! তবে মমতার ভবিষ্যদ্বাণী মিললে শেষপর্যন্ত আবার বিজেপির জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে না তো?


